কৃষ্ণ নাকি দিনে ৫ বার নামাজ পড়তেন!” মাওলানার আজব দাবিতে তোলপাড় দেশ, ক্ষোভে ফুঁসছে হিন্দু সমাজ!

ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে এবার দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের মুখে উত্তরপ্রদেশের মাওলানা জার্সিস আনসারি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি বিতর্কিত বয়ান ভাইরাল হতেই লখনউ থেকে মথুরা— সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, ইতিমধ্যেই শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশেই ওই মাওলানার বিরুদ্ধে ৯৫টি এফআইআর (FIR) ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। লখনউয়ের হজরতগঞ্জ থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
কী বলেছিলেন মাওলানা জার্সিস?
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে মাওলানা জার্সিস আনসারিকে এক জনসভায় দাবি করতে শোনা যায় যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নাকি দিনে পাঁচবার প্রার্থনা (নামাজ) করতেন। নিজের এই আজব দাবির সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ের দশম শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন। তিনি দাবি করেন, শ্রীকৃষ্ণ ঈশ্বরের পূর্ণাঙ্গ আরাধনা শিখিয়েছেন এবং তিনি নিজেও নাকি দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
“জিভ কেটে হাতে দিয়ে দেবে!” গর্জে উঠলেন বিজেপি নেতা নীতিশ রানে
মাওলানার এই মন্তব্যের পর তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিজেপি নেতা নীতিশ রানে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন:
“আজ একজন মাওলানা বুক ফুলিয়ে দাবি করছেন যে শ্রীকৃষ্ণ দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তেন। একবার ভাবুন তো, যদি কোনো হিন্দু ব্যক্তি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করতেন, তবে কী হতো? এতক্ষণে ফতোয়া জারি হয়ে যেত, ‘শিরচ্ছেদ’-এর স্লোগান উঠত। অথচ ওরা ভাবছে আমরা শুধু ওই মাওলানার গ্রেপ্তারের দাবি জানাব!”
নীতিশ রানে আরও যোগ করেন, এই মাটি মহাদেবের ভক্তদের এবং এটি একটি সনাতন ভূমি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো মাওলানা এমন দুঃসাহস দেখান এবং কোনো ক্ষুব্ধ হিন্দু এগিয়ে এসে তাঁর জিভ কেটে হাতে ধরিয়ে দেয়, তবে কেউ তাঁকে বাঁচাতে পারবে না।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদেরও তীব্র নিন্দা
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসাল। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মের আরাধ্য দেব-দেবী এবং শিব-কৃষ্ণকে নিয়ে এই ধরনের কুরুচিকর ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার প্রবণতা ইদানীং বাড়ছে। এটি ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। প্রশাসনের উচিত এই ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
আপাতত ৯৫টি মামলার বেড়াজালে জড়িয়ে মাওলানা জার্সিস আনসারির ওপর আইনি চাপ বেড়েই চলেছে। প্রশাসন এই স্পর্শকাতর বিষয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।