রেশন কার্ড নিয়ে মহা ফ্যাসাদ! ১০ লাখের বেশি গ্রাহক আধার সংকটে, কী হবে তাদের?

রাজ্যের প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি বৈধ রেশন গ্রাহক বর্তমানে আধার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সমস্যায় পড়েছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশু, যাদের এখনও আধার কার্ড তৈরি হয়নি। এছাড়াও, বহু গ্রাহকের আধার থাকলেও বায়োমেট্রিক যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রাজ্য সরকার আশ্বাস দিয়েছে, আধার জটিলতার কারণে কোনো বৈধ গ্রাহককেই রেশন থেকে বঞ্চিত করা হবে না।

সম্প্রতি রাজ্য খাদ্য দফতরের একটি পর্যালোচনা বৈঠকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী হওয়ায় এখনো পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ ৪১ হাজার গ্রাহকের আধার কার্ড তৈরি হয়নি। পাশাপাশি, ২২ হাজারেরও বেশি গ্রাহকের আধার থাকা সত্ত্বেও বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যর্থ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ ৭৫ হাজার গ্রাহককে এই সমস্যার শিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৯৬ শতাংশই শিশু।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, রেশন বণ্টনে স্বচ্ছতা আনতে প্রতিটি গ্রাহকের আধার নম্বর যুক্ত করা এবং বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, বিশেষত বয়স্কদের আঙুলের ছাপ না মেলা, এবং শিশুদের আধার না থাকার কারণে বহু ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

খাদ্য দফতর জানাচ্ছে, বর্তমানে মোট রেশন গ্রাহকদের মধ্যে ৯৮.৭৬ শতাংশের আধার নম্বর যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে, এবং এর মধ্যে ৯৮.২৮ শতাংশের বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে ঝাড়গ্রাম, কোচবিহার, ও আলিপুরদুয়ারের কিছু ব্লকে এই হার এখনো কম রয়েছে।

সরকারের উদ্যোগ ও সমাধান
এই সমস্যা প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্য প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। খাদ্য দফতর সমস্ত জেলাশাসককে চিঠি পাঠিয়ে সমস্যাগ্রস্ত গ্রাহকদের দ্রুত চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় খাদ্য আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করছেন এবং বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে রেশন সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

খাদ্য দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, আধার সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে এমন গ্রাহকদের জন্য আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক দিকটিও নিশ্চিত করা, যাতে কোনো বৈধ গ্রাহক রেশন থেকে বঞ্চিত না হন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেশন ব্যবস্থায় আধার যুক্ত করার ফলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমেছে। তবে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যাতে না হয়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। প্রশাসন আশাবাদী, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং কোনো গ্রাহককেই রেশন থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।