রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে এবার নীলছবির ট্যাক্সই ভরসা? জেলেনস্কির কি এই মাস্টারপ্ল্যান?

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা ইউক্রেন। ডিফেন্স সেক্টরের বিপুল খরচ মেটাতে এবার এক অভূতপূর্ব ও বিতর্কিত পথ বেছে নিতে চলেছে ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের অস্ত্র জোগাড় করতে এবং ড্রোন কেনার অর্থ সংগ্রহ করতে এবার পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রিকে আইনি বৈধতা দিতে চলেছে ইউক্রেন সরকার।

বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সম্প্রচার এবং এর ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং তহবিলের সংকটের কারণে এই অবস্থান বদলাতে চলেছে কিয়েভ। পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করে তার ওপর ভারী কর চাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জানা গিয়েছে, এই সংক্রান্ত একটি বিল ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের সংসদের প্রথম কক্ষে পাশ হয়ে গিয়েছে, যদিও দ্বিতীয় কক্ষে তা এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংসদের ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক অনুমান করছেন, এই নতুন নীতি কার্যকর হলে বার্ষিক প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ডিফেন্স সেক্টরে বার্ষিক প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। সেই তুলনায় পর্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসা ২৫ মিলিয়ন ডলারের অঙ্কটি অত্যন্ত সামান্য। তবে যুদ্ধের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে এই বাড়তি অর্থও কিয়েভের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়া হিসেব করে দেখেছেন, সংগৃহীত এই করের টাকা দিয়েই প্রায় ৩০,০০০ আধুনিক ড্রোন কেনা সম্ভব, যা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একাধিক অভ্যন্তরীণ জটিলতাও রয়েছে। দেশটিতে পর্নোগ্রাফি এতদিন নিষিদ্ধ থাকায় নির্মাতারা আয়ের হিসাব কর কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করলে ফৌজদারি মামলার মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। পাশাপাশি, গোপনীয়তা রক্ষা এবং দুর্নীতি ঠেকানোর প্রশ্নটিও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে এই নতুন আইন কার্যকর হলেও দেশের পর্ন নির্মাতারা এতে কতটা সাড়া দেবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।