বন্যায় ভাসছে ঘাটাল! রাস্তাঘাট জলমগ্ন থাকায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হচ্ছে নৌকায় চেপে!

পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জনজীবন সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির জেরে সবং, পিংলা এবং ঘাটাল এলাকার বিশাল অংশ এখন জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি—সবকিছুই প্লাবিত হওয়ায় পঠনপাঠন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে থমকে গেছে। পরিস্থিতি এমন এক চরম আকার ধারণ করেছে যে, প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে বা মৃতদেহ দাহ করতেও শ্মশানে পৌঁছাতে হচ্ছে একমাত্র ডিঙি নৌকার ভরসায়।

রবিবার এমনই এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ছবি উঠে এসেছে ঘাটাল পৌরসভার শুকচন্দ্রপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুকচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা নিতাই শাসমল ও রবীন্দ্রনাথ শাসমল নামে দুই বৃদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। কিন্তু মর্মে মর্মে বিপাকে পড়ে শোকাহত পরিবার। গ্রামের চারপাশ বানের জলে প্লাবিত থাকায় সমস্ত রাস্তাঘাট জলের তলায় ডুবে রয়েছে। স্থানীয় শ্মশানটিও জলের নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মৃতদেহ সৎকার করা এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে, গ্রামের সাধারণ মানুষ ও মৃতদের পরিবারের সদস্যরা মিলে দুটি মরদেহ এবং দাহকাজের সমস্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী একটি ডিঙি নৌকায় চাপিয়ে রঘুনাথচক শ্মশানে নিয়ে যান এবং জলের ওপর দিয়েই কষ্টকর যাত্রা করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

এই ভয়াবহ জলযন্ত্রণা ও চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন এলাকার স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন যে, বিগত দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থেকেও বর্তমান শাসক দল ঘাটালবাসীকে এই দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বন্যা কবলিত এই জনপদে একটি আধুনিক ইলেকট্রিক চুল্লির অত্যন্ত প্রয়োজন থাকলেও বিগত এত বছরেও তা তৈরি করা হয়নি।

তবে রাজ্য সরকারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিধায়ক আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাঁদের নতুন সরকারের বয়স সবেমাত্র চার মাস হয়েছে এবং এর মধ্যেই পূর্তমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। মন্ত্রীর কাছে ঘাটালের পক্ষ থেকে অবিলম্বে একটি আধুনিক ইলেকট্রিক চুল্লি তৈরির আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে এবং বিস্তারিত রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারি মাসের মধ্যেই এই জরুরি প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ঘাটালের এই করুণ পরিস্থিতিতে কবে স্থায়ী সমাধান আসে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় সর্বস্বান্ত সাধারণ মানুষ।