হঠাৎ ফোন ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে? অজান্তেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন না তো! সাইবার জালিয়াতির এই নতুন ফাঁদ জানলে চমকে যাবেন!

ফোনের স্ক্রিন আচমকা ফ্রিজ হয়ে গেল? বিষয়টিকে শুধুমাত্র সাধারণ প্রযুক্তিগত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। বর্তমান সময়ে নতুন ধরনের অনলাইন প্রতারণায় ঠিক এই ধরনের ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’-কেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সাইবার অপরাধীরা। স্ক্রিন হ্যাং হওয়ার পর ব্যবহারকারীকে ভয় দেখিয়ে বা সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে বিশেষ কোনও ক্ষতিকর অ্যাপ ডাউনলোড করানো হতে পারে। এরপর সুকৌশলে সেই অ্যাপের মাধ্যমে ইউপিআই (UPI), ব্যাঙ্কিং তথ্য কিংবা সংবেদনশীল ওটিপি (OTP) হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায় ধূর্ত প্রতারকরা।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আধুনিক প্রযুক্তির প্রতারণায় ইউপিআই-এর মূল নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার কোনো প্রয়োজনই হয় না। বরং ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অ্যাপের পারমিশন, অথেনটিকেশন এবং মানুষের সামান্য অসতর্কতাকেই নির্মমভাবে কাজে লাগায় হ্যাকাররা। ভুয়ো কাস্টমার সাপোর্ট কল, লোভনীয় ক্যাশব্যাক অফার কিংবা ভেরিফিকেশনের নামে ব্যবহারকারীকে দিয়ে ক্ষতিকর এপিকে (APK) ফাইল ডাউনলোড করানো হতে পারে।

বিশেষ করে অ্যাকসেসিবিলিটি, এসএমএস, নোটিফিকেশন কিংবা স্ক্রিন-শেয়ারিং পারমিশনগুলি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কোনো ম্যালওয়্যারযুক্ত অ্যাপ এই সমস্ত সংবেদনশীল অনুমতি পেয়ে গেলে ফোনের সমস্ত কার্যকলাপ গোপনে নজরে রাখা, ওটিপি পড়া কিংবা স্ক্রিনের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করার অবাধ সুযোগ পেয়ে যায়। এমনকী ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করে অজান্তেই ইউপিআই পিন দিয়ে দেওয়া বা যেকোনো অনৈতিক ট্রানজাকশন অনুমোদন করিয়ে নেওয়াও সম্ভবপর হয়।

ফোন ফ্রিজ হলে তাৎক্ষণিকভাবে কী করবেন?
সবচেয়ে প্রথমে মোবাইলের ইন্টারনেট ডেটা ও ওয়াই-ফাই সংযোগ বন্ধ করে দিন। অপরিচিত বা সন্দেহজনক কারও সঙ্গে কখনোই ব্যাঙ্কের তথ্য, ওটিপি বা ইউপিআই পিন শেয়ার করবেন না। কেউ ফোন করে রিমোট-অ্যাক্সেস বা স্ক্রিন-শেয়ারিং অ্যাপ ইনস্টল করার নির্দেশ দিলে কোনো অবস্থাতেই সেই ফাঁদে পা দেবেন না।

ফোনে কোনো সন্দেহজনক বা অজানা অ্যাপ থেকে থাকলে অবিলম্বে তা চিরতরে আনইনস্টল করে দিন এবং ফোনের অ্যাকসেসিবিলিটি ও ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো সংবেদনশীল পারমিশনগুলি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। ব্যাঙ্কিং তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে সামান্য সন্দেহ হলেও দ্রুত ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন, সাম্প্রতিক লেনদেনগুলি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড ও পিন দ্রুত পরিবর্তন করে ফেলুন। আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন মনে হলে দেরি না করে অবিলম্বে ১৯৩০ (1930) নম্বরে কল করে সরকারি সাইবার হেল্পলাইনে রিপোর্ট করুন।

সবসময় মনে রাখবেন: দেশের কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি ব্যাঙ্ক কিংবা কোনো বৈধ পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কখনোই সাধারণ ইউপিআই সমস্যা সমাধানের জন্য আপনাকে রিমোট-অ্যাক্সেস অ্যাপ ইনস্টল করতে বা স্ক্রিন শেয়ার করতে বলবে না। এই বিষয়ে সর্বদা সতর্ক ও সচেতন থাকুন।