“বড়মার আশীর্বাদে চাঙ্গা বিক্রি”-২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বাবরসা’ মিষ্টির গোপন রহস্য জানেন?

আড়াইশো বছরের বেশি সময় ধরে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষীরপাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ‘বাবরসা’। ঘিয়ের বদলে সাদা তেল আর মধুর পরিবর্তে চিনির রসে তৈরি হলেও এই মুচমুচে মিষ্টির কদর আজও একটুও কমেনি। বরং বড়মার আশীর্বাদ এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের জেরে গত কয়েক বছরে এর বিক্রি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এত চাহিদার মাঝেও গভীর সংকটে পড়েছে ক্ষীরপাইয়ের এই প্রাচীন মিষ্টান্ন শিল্প।

বাবরসার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে নানা মত প্রচলিত রয়েছে। অনেকের মতে, ব্রিটিশ কুঠি সাহেব এডওয়ার্ড বাবরশ ক্ষীরপাইয়ে বর্গী হানা রুখে দেওয়ার পর তাঁর নামেই এই মিষ্টির নামকরণ হয়। আবার অন্য একটি মত অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট বাবর শাহ এই মিষ্টির সুখ্যাতি করায় তাঁর নামানুসারে এর নাম ‘বাবরসা’ রাখা হয়। অতীতে খাঁটি ঘি ও মধুতে এই মিষ্টি তৈরি হলেও দাম সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে রাখতে বর্তমানে সাদা তেলে ভেজে চিনির রস ছড়ানো হয়। ফলে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রতি পিস দামেই ক্রেতারা এই মিষ্টির স্বাদ নিতে পারছেন। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তো বটেই, ক্ষীরপাইয়ের ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী বাসযাত্রীদের মধ্যেও এর চাহিদা তুঙ্গে। ক্ষীরপাইয়ের প্রায় ৪০টি মিষ্টির দোকানে প্রতিদিন হাজার হাজার পিস বাবরসা বিক্রি হয় এবং এই মিষ্টির জিআই (GI) ট্যাগ পাওয়ার প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

তবে ব্যবসার রমরমা থাকলেও সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষ কারিগরের অভাব। বাবরসা তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রচণ্ড ধৈর্য ও শারীরিক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। একজন অভিজ্ঞ কারিগর সারাদিনে বড়জোর দেড়শো পিস বাবরসা তৈরি করতে পারেন, যার বিনিময়ে তাঁরা মজুরি পান পিসপ্রতি মাত্র ৩ টাকা। এই স্বল্প পারিশ্রমিক এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এই পেশায় আসতে চাইছে না। ফলস্বরূপ, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কারিগরের অভাবে উৎপাদনে টান পড়ছে। প্রাচীন এই মিষ্টির ঐতিহ্য আগামী দিনে টিকিয়ে রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ক্ষীরপাইয়ের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের কপালে।