সংবাদপত্রের আড়ালে কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন? অস্বস্তিতে তৃণমূল সাংসদ নাদিমুল হক, দেখুন চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট!

সোমবার সকালেই বড়সড় অ্যাকশনে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আর্থিক তছরুপের একটি গুরুতর মামলার তদন্তে নেমে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের বাড়িতে হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাঁর বাসভবনই নয়, এই অভিযানের অংশ হিসেবে দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড মিলিয়ে মোট সাতটি ভিন্ন জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আর্থিক তছরুপ মামলায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ নাদিমুল হক এবং তাঁর মালিকানাধীন উর্দু সংবাদপত্র ‘আখবার-এ-মশরিক’-এর। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, এই সংবাদপত্রের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং অত্যন্ত সন্দেহজনক উৎস থেকে বেআইনিভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সাংসদ এই সংবাদপত্রের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইডি-র কলকাতা জোনাল অফিসের একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করছে। সোমবার সকালেই পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশের সহযোগিতায় এই আকস্মিক তল্লাশি শুরু হয়। সাংসদের ব্যক্তিগত বাসস্থান ছাড়াও এই সংবাদপত্রের প্রধান কার্যালয় এবং আরও বেশ কয়েকটি সন্দেহভাজন ঠিকানায় চিরুনি তল্লাশি চলছে।
ইডি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে পূর্বে দায়ের হওয়া একটি এফআইআর (FIR)-এর ভিত্তিতেই এই মামলার সূত্রপাত হয়েছে। সেই এফআইআর-কে ভিত্তি করেই ইডি তাদের নিজস্ব এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট (ECIR) প্রস্তুত করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
মামলার মূল অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এমন আপত্তিকর লেখা প্রকাশ ও প্রচার করার চক্রান্ত। পাশাপাশি, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব বহির্ভূত নগদ অর্থের কারবার এবং সন্দেহজনক বিদেশি বা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহের মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগও নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক লক্ষ্য হল এই সমস্ত অপরাধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত বেআইনি টাকার মূল উৎস খুঁজে বের করা এবং আর্থিক লেনদেনের সম্পূর্ণ গতিপথ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা। এই মামলায় সরাসরি নাম জড়ানো ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য আর্থিক নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালিয়েছে ইডি।
অভিযান চলাকালীন কী ধরনের চাঞ্চল্যকর নথি বা ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে কিংবা এই তল্লাশির পরবর্তী পদক্ষেপে কী ঘটতে চলেছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর কঠোর আইনি বিধান মেনেই বর্তমানে এই মামলার সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।