সামান্য ভুলে চিরতরে নষ্ট হতে পারে দৃষ্টিশক্তি! অন্যের চশমা ব্যবহারের এই ভয়ানক পরিণতি জানেন কি?

সকালে অফিসের তাড়াহুড়োয় চশমা ফেলে বেরিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই থাকে। ঠিক তখনই টেবিলে বন্ধুর চশমার পাওয়ার মিলে যেতেই অনেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দিনভর সেটি পরে কাটিয়ে দেন। তবে পাওয়ার মিলে গেলেও অন্যের চশমা ধার করে পরলে চোখের জন্য মারাত্মক অস্বস্তি ও বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা অনেকেই আন্দাজ করেন না।

চশমা তৈরির সময় কেবল চোখের পাওয়ার নয়, পিউপিলারি ডিসট্যান্স বা দুই চোখের মণির মধ্যকার দূরত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রতিটি মানুষের মুখের গড়ন ও চোখের অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে থাকে। এই গঠন অনুযায়ী লেন্সের অপটিক্যাল সেন্টার আলাদা জায়গায় বসানো হয়। ফলে বন্ধুর চশমা চোখে দিলে তার কাচের অপটিক্যাল সেন্টার নিজের চোখের মণির সঙ্গে পুরোপুরি নাও মিলতে পারে। অপটিক্যাল সেন্টার ও চোখের মণির অবস্থানের মধ্যে সামান্য গড়মিল থাকলে লেন্সে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রিজম্যাটিক এফেক্ট তৈরি হতে পারে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অপটিক্যাল সেন্টার সঠিকভাবে না মিললে কিছু মানুষের চোখে চরম ক্লান্তি ও দৃষ্টিজনিত অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এর ফলে মারাত্মক মাথাব্যথা, চোখে অতিরিক্ত চাপ, ঝাপসা দেখা বা কখনও ডাবল ভিশনের মতো গুরুতর সমস্যাও হতে পারে।

চোখের স্ফেরিক্যাল পাওয়ার একই হলেও অনেকের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম সিলিন্ড্রিক্যাল পাওয়ার বা অ্যাস্টিগম্যাটিজমের তারতম্য থেকে যায়। প্রেসক্রিপশনে থাকা সেই অ্যাক্সিস বা কোণের সামান্য গড়মিল হলে অন্যের চশমা পরে চারপাশের লেখা বা বস্তু ঝাপসা কিংবা বিকৃত লাগতে পারে। দীর্ঘক্ষণ এমন চশমা পরে কাজ করলে চোখের ক্লান্তি ও দৃষ্টিজনিত অস্বস্তি বহুগুণ বেড়ে যায়। শারীরিক মাপ ছাড়াও অন্যের চশমা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারও ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস থাকলে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের মাধ্যমে খুব সহজেই মারাত্মক জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই চোখের সংক্রমণ থাকলে ভুলেও চশমা শেয়ার করা উচিত নয়।

মুখের মাপ অনুযায়ী ফ্রেমের সাইজ ঠিকঠাক না বসলে নাক ও কানের পিছনে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। ঢিলেঢালা ফ্রেম বারবার নিচে নেমে যায়, আবার অতিরিক্ত টাইট ফ্রেম নাক বা কানের পিছনে গভীর চাপ সৃষ্টি করে। জরুরি কাজে কিছু সময় অন্যের চশমা ব্যবহারের পর চোখে ক্লান্তি বা মাথাব্যথা হলে তা দ্রুত খুলে ফেলা উচিত। চশমা কোনও সাধারণ ফ্যাশন অ্যাকসেসরি নয়, এটি একটি দৃষ্টিসংশোধনী উপকরণ। তাই নিজের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তৈরি চশমাই ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।