রথের রশিতে টান! পুরীতে সাগরময় ভক্তের ঢল, কড়া নিরাপত্তায় শুরু জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি যাত্রা

আজ রথযাত্রা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা দেশ, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দির। ভোর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ঐতিহ্যবাহী উপাচার। ভগবান জগন্নাথের রথ ‘নন্দীঘোষ’, বলভদ্রের ‘তালধ্বজ’ এবং দেবী সুভদ্রার ‘দর্পদলন’ এখন প্রস্তুত। ঐতিহ্যবাহী ‘ছেঁড়া পাহারা’ আচার শেষে আজ বিকেল ৪টে নাগাদ শুরু হবে তিন রথের মাসির বাড়ি অর্থাৎ শ্রী গুন্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা। নয় দিনব্যাপী এই উৎসব ঘিরে এখন পুরীর প্রতিটি অলিগলি ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখরিত।
এই বছরের রথযাত্রা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন। প্রায় ৩০ লক্ষ ভক্তের সমাগম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওড়িশা সরকার। সেই বিপুল ভিড় সামলাতে ১৩,০০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য এবং ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (এনএসজি, আরএএফ, সিআরপিএফ ও বিএসএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে নজরদারি চালানোর জন্য ড্রোন, ড্রোনেরোধী ব্যবস্থা এবং প্রায় ৫০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। উপকূলে যৌথ টহল দিচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড।
গত বছর রথযাত্রার সময় পদদলিত হয়ে দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনার কথা মাথায় রেখে এ বছর প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর। ভিআইপিদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের রথের আশেপাশের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বয়স্ক, নারী ও বিশেষভাবে সক্ষম ভক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে ১৭০০টি বায়ো-টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে কুইক রেসপন্স টিম ও দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর মহড়াও সম্পন্ন হয়েছে।
তবে উৎসবের আবহের মাঝেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রতিবেশী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের কোভিড পরিস্থিতি। ২০২২ সালের পর সেখানে নতুন করে কোভিডে মৃত্যুর খবর পাওয়ায় ওড়িশা সরকার স্বাস্থ্য নজরদারি আরও জোরদার করেছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ রথগুলোর আশেপাশে একাধিক জরুরি নির্গমন পথ তৈরি রেখেছে। ভক্তদের সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তাবলয় রথযাত্রাকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।