হৃদরোগে মৃত্যু? মিথ্যে নাটক ফাঁস! স্ত্রীকে খুন করে ধরা পড়ল স্বামী, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজস্থানের সিরোহি জেলার জাভাল গ্রামে ঘটে যাওয়া পুনম কানওয়ার হত্যাকাণ্ড বর্তমানে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। হার্ট অ্যাটাকের নাটক সাজিয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে স্বামী গজেন্দ্র সিং রাজপুতকে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি প্রাকৃতিক মৃত্যু বলে মনে হলেও, পুলিশের তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এক ভয়াবহ পরিকল্পিত খুনের পর্দা ফাঁস করেছে।
জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে গত ৩০ জুন অভিযুক্ত গজেন্দ্র তার স্ত্রী পুনম এবং তিন বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর থেকে রাজস্থানে ফিরে আসে। এর আগেও স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাদের জের ধরে আদালতে মামলা হয়েছিল। তবে পুলিশের মধ্যস্থতায় মিটমাট হওয়ার পর গজেন্দ্র তাকে খুশি রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে।
তদন্তে উঠে এসেছে, খুনের জন্য গজেন্দ্র এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র করেছিল। ৮ ও ৯ জুলাই সে স্ত্রীকে নিয়ে উদয়পুরে ঘুরতে যায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ছবি ও স্ট্যাটাস শেয়ার করে, যাতে পরিবারের সদস্যদের মনে হয় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে। এই সময় সে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে এক বন্ধুর পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গাড়ি ভাড়া করে।
৯ জুলাই রাতে উদয়পুর থেকে ফেরার পথে গজেন্দ্র ড্রাইভারকে নির্দেশ দেয় একটি নির্জন রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে। সেই সময় তার স্ত্রী এবং শিশুকন্যা পেছনের সিটে ঘুমিয়ে ছিল। চলন্ত গাড়িতেই সুযোগ বুঝে সে স্ত্রীর গলা টিপে হত্যা করে। রাত প্রায় দুটোর সময় সে জাভাল গ্রামে পৌঁছায় এবং পরিবারের সদস্যদের জানায় যে পুনম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
পরিবার প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করে শেষকৃত্যের আয়োজন করছিল, কিন্তু স্থানীয় পুলিশ মৃতদেহের গলায় কিছু অসংগতি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করে। এরপর মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত করা হলে রিপোর্টে পরিষ্কার হয় যে এটি হার্ট অ্যাটাক নয়, বরং শ্বাসরোধ করে হত্যা। রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশি জেরার মুখে পড়ে শেষপর্যন্ত ভেঙে পড়ে অভিযুক্ত গজেন্দ্র এবং তার খুনের দায় স্বীকার করে নেয়।
পুলিশি তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, গুটখা খাওয়ার অভ্যাস এবং টাকা পয়সা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো গজেন্দ্রর। পুলিশ এখন ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা গাড়ির ড্রাইভারকেও খুঁজছে, কারণ তাকে ছাড়া এই পরিকল্পনা সফল করা অসম্ভব ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ড্রাইভারের পলাতক হওয়া এবং গাড়ির নম্বর প্লেট বদল করার বিষয়টি এই হত্যাকাণ্ডে আরও বড় কোনো চক্রের দিকে ইঙ্গিত করছে। আপাতত অভিযুক্ত স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।