রথযাত্রা নিয়ে বড় বিতর্কে ইসকন! নিয়মভঙ্গের অভিযোগে কড়া বার্তা পুরীর গদাধর মহারাজার

রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি হিন্দু ধর্মশাস্ত্র ও প্রাচীন ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে ইসকনের (ISKCON) রথযাত্রার দিনক্ষণ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান তথা গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেব সরাসরি ইসকনের গভার্নিং বডি কমিশনের (GBC) চেয়ারম্যানকে চিঠি লিখে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, শাস্ত্রনির্দিষ্ট তিথি মেনে রথযাত্রা পালন করতে হবে, সুবিধামতো দিন নির্বাচন করা জগন্নাথ সংস্কৃতির পরিপন্থী।
কেন এই ক্ষোভ?
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা পালিত হয়। ২০২৬ সালে পুরীতে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জুলাই। কিন্তু গজপতি মহারাজার অভিযোগ, লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, সিডনি এবং কেনিয়ার মতো বিভিন্ন দেশে ইসকন নির্ধারিত দিনের আগেই রথযাত্রা সম্পন্ন করেছে। এটি কেবল শাস্ত্রীয় নিয়মের লঙ্ঘনই নয়, বরং ভগবান জগন্নাথের অগণিত ভক্তের ভাবাবেগে আঘাত হানা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসকনের নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে উৎসব আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
স্নানযাত্রা ও মধ্যপ্রদেশের কর্মসূচি নিয়েও আপত্তি:
শুধু রথযাত্রা নয়, স্নানযাত্রার তারিখ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গজপতি মহারাজা। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ইসকন আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শুধুমাত্র জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাতেই স্নানযাত্রা পালন করা হবে। অথচ তথ্য বলছে, বিশ্বের অনেক দেশেই অন্য তারিখে এই উৎসব হচ্ছে। এছাড়াও, মধ্যপ্রদেশের ৬৬টি জায়গায় ১৬ জুলাই থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে যে রথযাত্রার পরিকল্পনা ইসকন উজ্জয়িনী নিয়েছে, তা নিয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, রথযাত্রা একটি নয় দিনের উৎসব, যা আষাঢ় শুক্লা দ্বিতীয়া থেকেই শুরু হওয়া বাধ্যতামূলক।
শাস্ত্র বনাম বাস্তবতা:
গজপতি মহারাজা স্কন্দ পুরাণের উল্লেখ করে জানিয়েছেন, স্বয়ং ভগবান জগন্নাথ স্নানযাত্রা ও রথযাত্রার দিন নির্ধারণ করেছেন। তাই এই প্রাচীন বিধান উপেক্ষা করা শাস্ত্রসম্মত নয়। অন্যদিকে, ইসকনের দীর্ঘদিনের যুক্তি হলো—বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে একই দিনে রথযাত্রা পালন করা ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক কারণে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে রাশিয়া বা পশ্চিমা দেশগুলির তীব্র আবহাওয়া, স্থানীয় সরকারি বিধিনিষেধ এবং সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় উৎসবের দিন পরিবর্তন করতে হয়।
পুরীতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি:
এই বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন পুরীর রথ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। ২২০ জন কারিগর দিনরাত এক করে তৈরি করছেন রথ। ১৬ জুলাইয়ের মূল রথযাত্রার অপেক্ষায় এখন গোটা বিশ্ব। গজপতি মহারাজার এই আনুষ্ঠানিক চিঠির পর ইসকন কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, সনাতন ঐতিহ্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা থাকা জরুরি, যাতে বিশ্বজুড়ে জগন্নাথ সংস্কৃতি একনিষ্ঠভাবে পালন করা সম্ভব হয়।