‘সরকারের ওপর আস্থা আছে’,-বারুইপুর কাণ্ডে জানাল নির্যাতিতার পরিবার

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার তীব্রতা এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে মঙ্গলবার সকালেই নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন বিজেপির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ।
পরিবারের পাশে বিজেপি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর অগ্নিমিত্রা পাল জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিয়মিত এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা পরিবারকে সাহস জোগাতে এবং রাজ্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তাদের জানাতে এসেছি। পরিবার সরকারের ওপর আস্থা রেখেছে। আমরা চাই অপরাধী যে-ই হোক, তার কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত হোক।”
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান ও সিট (SIT) গঠন ঘটনার খবর পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবারই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর নিজে বারুইপুর যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পুলিশ সুপার (SP)-এর কাছ থেকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট নেবেন।
আইন নিজের হাতে নয়: হুঁশিয়ারি প্রশাসনের ধর্ষণ ও খুনের মামলার পাশাপাশি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু, পুলিশকে মারধর এবং রেললাইন অবরোধের ঘটনাকেও প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন, এমন প্রায় ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেক্ষাপট শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সকালে পুকুর থেকে ওই নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং গণপিটুনির মতো চরম পদক্ষেপ নেয়। এখন প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ হলো একদিকে মূল অপরাধীদের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অন্যদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত রাখা।