‘মুখ্যমন্ত্রী কাউকে অ-সম্মান করেননি’, প্রাক্তন সেনাদের পাল্টা ধুলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

ভাষা আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার নতুন মোড়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রাক্তন সেনা আধিকারিকরা এবার সরাসরি আন্দোলনে নামতে চলেছেন। তাঁরা ধর্মতলায় ধর্নায় বসার অনুমতির জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই মামলার শুনানির অনুমতি দিয়েছেন এবং আগামী সোমবারেই শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি ধর্মতলায় ভাষা ও বাঙালি পরিচিতি রক্ষার দাবিতে তৃণমূলের অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। অভিযোগ ওঠে যে, গত সোমবার সেনাবাহিনী আচমকা মেয়ো রোডে গিয়ে ওই মঞ্চটি ভেঙে দেয়। খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা দেশের বন্ধু, আপনাদের পোশাককে আমরা শ্রদ্ধা করি… কিন্তু সেনাবাহিনীও বিজেপির কথায় ব্যবহার হল।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রাক্তন সেনারা। তাঁরা মনে করছেন, রাজনৈতিক চাপান-উতোরের জন্য অযথা সেনাকে জড়ানো হয়েছে। এর প্রতিবাদেই আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তাঁরা মেয়ো রোডে ধর্নায় বসার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন।
রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কাউকে অসম্মান করেননি। আমরা সেনার অনুমতি নিয়েই ধর্নায় বসেছিলাম। যদি প্যান্ডেল সংক্রান্ত কোনও অসুবিধা হত, তাহলে সরাসরি আমাদের ডেকোরেটর্সের সঙ্গে কথা বললেই চলত। তা না-করে সেনাকে ব্যবহার করে প্যান্ডেল খোলানো হল।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, প্রাক্তন সেনাদের এই পদক্ষেপের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন থাকতে পারে।
এই ঘটনা এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ভাষা আন্দোলন এবং সেনার সম্মান— এই দুটি সংবেদনশীল ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আগামী সোমবার হাইকোর্টের রায় কী হয়, তার উপরই নির্ভর করছে এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ।