মমতাকে চরম আল্টিমেটাম কল্যাণের! ফিরহাদ হাকিম কি তবে পা বাড়ালেন ‘নব তৃণমূল ব্লকে’?

রাজ্য রাজনীতির আকাশে এখন চূড়ান্ত অস্থিরতা। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন, অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি পুরনো নেতাদের চরম অনাস্থা। এরই মধ্যে কলকাতা বন্দরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল রহস্য। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তাঁর অনুপস্থিতি এবং এর আগে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর দীর্ঘ সময় কাটানোর ঘটনা জল্পনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। ঋতব্রত ও তাঁর ‘নব তৃণমূল ব্লক’ এখন কার্যত তৃণমূলের মূল শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

শুক্রবার বিধানসভায় ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা এবং চণ্ডীতলার তৃণমূল বিধায়ক স্বাতী খন্দকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। শপথের পর ‘নব তৃণমূল ব্লকের’ কাণ্ডারি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, তাঁদের ব্লকের শক্তি ক্রমাগত বাড়ছে। যদিও ফিরহাদ হাকিমের যোগদানের বিষয়ে তিনি সরাসরি মুখ খোলেননি, তবে তাঁর রহস্যময় ইঙ্গিত— “যখন অধিবেশন হবে, তখন সব পরিষ্কার হয়ে যাবে”—রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। ঋতব্রত দাবি করেছেন, বিধায়কদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে এবং এটাই এখন বিধানসভার মূল ফোর্স।

এরই মধ্যে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে ভূমিকম্পের মতো আঘাত করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অহংকারী’ আখ্যা দিয়ে কল্যাণ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, নেত্রীকে এখন বেছে নিতে হবে তিনি কাদের পাশে থাকবেন—অভিষেকের মতো নতুনদের, নাকি পুরনো ও অভিজ্ঞ নেতাদের। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিদ্রোহ তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার লড়াইকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। দলের বিপর্যয় এবং আইপ্যাকের হস্তক্ষেপ নিয়ে যে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের, তা আজ যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এসেছে।

স্বাতী খন্দকারের শপথগ্রহণকে ঘিরেও জল্পনা কম ছিল না। দীর্ঘ অসুস্থতার পর এদিন তিনি শপথ নেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে, চণ্ডীতলার বিধায়ক তাঁদের শিবিরের প্রতি কতটা ইতিবাচক। এদিকে, ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েট নেতার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে তৃণমূলের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা। দল কি ভাঙনের মুখে? নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো অলৌকিক কৌশলে এই বিদ্রোহ সামাল দেবেন? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আগামীর দিনগুলোতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy