মন্দির পুজো নয় কি ‘দর্শনীয় স্থান’? প্রয়াগরাজের মন্দিরে খোলামেলা পোশাকে প্রবেশ নিষেধ

আগামী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে পবিত্র শ্রাবণ মাস। এই উপলক্ষ্যে প্রয়াগরাজের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন মানকামেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষ ভক্তদের জন্য নিয়ে এল একগুচ্ছ নতুন ও কঠোর নির্দেশিকা। মন্দিরের মহন্ত ব্রহ্মচারী শ্রী ধরনন্দ মহারাজ জানিয়েছেন, ভক্তদের একাগ্রতা ও ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতেই এই নতুন বিধি কার্যকর করা হচ্ছে।
পোশাক বিধি ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা: মন্দির কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে মন্দিরে প্রবেশে কঠোর পোশাক বিধি মানতে হবে।
নারীদের জন্য: ছোট বা খোলামেলা পোশাক পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাঁদের শাড়ি বা সালোয়ার স্যুটের মতো শালীন ও সম্পূর্ণ আবৃত পোশাকেই প্রবেশ করতে হবে।
পুরুষদের জন্য: শালীন পোশাক পরতে হবে। রুদ্রাভিষেকের জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ পুরুষদের বিনামূল্যে ধুতি প্রদান করবে, যা অভিষেকের পর ফেরত দিতে হবে।
ছবি ও সেলফি: মন্দির চত্বরের ভিতরে সেলফি তোলা বা ছবি তোলা এখন থেকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
অতিরিক্ত গয়না: চুরির ঝুঁকি এড়াতে ভক্তদের অতিরিক্ত সোনা ও রুপোর গয়না না পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য নিয়ম: প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্লাস্টিকের গ্লাসে বাবার অভিষেক করা যাবে না। পাশাপাশি, ধূমপান বা গুটখা-পান মসলা খাওয়া মন্দিরে সম্পূর্ণ বারণ।
শিবলিঙ্গের দর্শন: শিবলিঙ্গের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? মন্দির কর্তৃপক্ষের কথায়, মন্দির হলো আধ্যাত্মিক সাধনার স্থান, পর্যটনের কেন্দ্র নয়। ভক্তদের একাগ্রতা নষ্ট হতে পারে এমন আচরণ বা পোশাক পরিহার করা উচিত। অধিকাংশ ভক্ত মন্দির কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, মন্দিরের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই ধরণের উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
মন্দির চত্বরের বিভিন্ন প্রান্তে বিজ্ঞপ্তি বোর্ড লাগিয়ে ভক্তদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কাউকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।