মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় খেলা! এনডিএ-তে যোগ দিচ্ছে শরদ পাওয়ারের এনসিপি? রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে তোলপাড়

মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি-এসপি) শাসক জোট এনডিএ-তে যোগ দিতে পারে, এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক পারদকে তুঙ্গে তুলেছে। একের পর এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক এবং শীর্ষ নেতাদের ঘনঘন যাতায়াত এই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে, যখন শরদ পাওয়ার গোষ্ঠীর দুই শীর্ষ নেতা উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জানা গেছে, শিন্ডে এবং এনসিপি (এসপি) নেতা জয়ন্ত পাতিলের মধ্যে প্রায় আধ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। এই বৈঠকে জিতেন্দ্র আওহাদও উপস্থিত ছিলেন। এর দুদিন আগেই জয়ন্ত পাতিল রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘বর্ষা’ নিবাসে প্রফুল প্যাটেল এবং সুনীল টাটকেরের উপস্থিতিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।

চলমান বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন এনসিপি (এসপি) প্রধান শরদ পাওয়ারের সঙ্গে উপ-মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডের সাক্ষাৎ এই জল্পনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, শরদ পাওয়ারের দলটি যদি এনডিএ-তে শামিল হয়, তবে জয়ন্ত পাতিলের কাঁধে বড় কোনো গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হতে পারে। যদিও শরদ পাওয়ার ব্যক্তিগতভাবে দাবি করেছেন যে, তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব পাননি।

এই পরিস্থিতিতে এনসিপি-র রাজ্য সভাপতি সুনীল টাটকরে জল্পনা থামাতে আসরে নেমেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বর্তমানে চলছে না। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীশের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকটি ছিল একান্তই নিজের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে। অর্থ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। জয়ন্ত পাতিলের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কোনো যোগসূত্র নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

তাতকরের কথায়, এই বছরের শুরুতে দুই এনসিপি শিবিরের একীভূত হওয়ার আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছিল। কিন্তু অজিত পাওয়ারের অনুগত মহলের কোনো কোনো ক্ষেত্রে জটিলতা ও শরদ পাওয়ার গোষ্ঠীর অনমনীয় অবস্থানের কারণে সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়। তিনি বলেন, “আমরা কোনো নতুন প্রস্তাব পাইনি। যদি কোনো প্রস্তাব আসে, তবেই আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করব।” এছাড়া, সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে শরদ পাওয়ার গোষ্ঠীর সমর্থন এনডিএ-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার লক্ষণ—এই তত্ত্বকেও তিনি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত তরল। একদিকে লোকসভা নির্বাচনের উত্তাপ, অন্যদিকে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এনসিপি-র প্রতিটি পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শরদ পাওয়ার কি শেষ পর্যন্ত এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার কোনো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেবেন, নাকি এটি নিছকই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল? তা সময় বলবে। তবে আপাতত রাজ্যের রাজনীতি যে বড় কোনো পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।