মধ্যপ্রাচ্যের বরফ গলতেই উল্টো চাল সোনার বাজারে! একলাফে সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে হলুদ ধাতু

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ কিছুটা প্রশমিত হতেই আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে এক অপ্রত্যাশিত ও চাঞ্চল্যকর পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করা, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদের হার আর না বাড়ানোর আশাবাদী মনোভাবের জেরে বৃহস্পতিবার মূল্যবান এই ধাতু রীতিমতো লাফিয়ে উঠেছে। এর জেরে এক লাফে গত সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছে সোনার বাজার।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় ফিউচার মার্কেট বা এমসিএক্স (MCX)-এ প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৪৯,০২৯ টাকা থেকে লেনদেন শুরু করে মুহূর্তের মধ্যে ১,৪৯,২৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক bullion market তথা কমেক্স (COMEX)-এ সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৪,৩৬৩.৬০ ডলারে স্পর্শ করেছে, যা বিগত সাত সপ্তাহের মধ্যে একটি অন্যতম বড় রেকর্ড। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে মূলত দুটি প্রধান অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক কারণ কাজ করছে। প্রথমত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বার্তা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন ফের স্বাভাবিক হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব বাজারে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম কমার জোরালো আশা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তেলের দাম কমলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশনের চাপ অনেকটাই হ্রাস পায়, যার ফলে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের ওপর সুদের হার বাড়ানোর বাড়তি প্রশাসনিক চাপ থাকে না। সুদের হার না বাড়ার কারণে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন এবং মার্কিন ডলার উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়েছে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার দুর্বল হলেই বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ বা সেফ হ্যাভন অ্যাসেট হিসেবে সোনা কেনার দিকে ঝুঁকে পড়েন।

এনরিচ মানির সিইও পনমুদি জানান, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতি ঘটলেও মার্কিন ডলারের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনও সোনাকেই সবচেয়ে সুরক্ষিত বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। সেবি-নিবন্ধিত বাজার বিশেষজ্ঞ অনুজ গুপ্তর মতে, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা কমে যাওয়ায় মার্কিন ফেডের নরম মনোভাব সামগ্রিক সোনার বাজারকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলছে। দেশীয় বাজার অর্থাৎ এমসিএক্স-এ আগামী দিনে ১০ গ্রাম সোনার জন্য ১.৪৫ লাখ থেকে ১.৫২ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি বড় ট্রেডিং রেঞ্জ দেখা যেতে পারে। আপাতত ১.৫০ লাখ টাকার স্তরটি একটি বড় রেজিস্ট্যান্স বা বাধা হিসেবে কাজ করছে, যা পার করতে পারলে দাম খুব সহজেই ১.৫২ লাখ টাকা স্পর্শ করতে পারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজার কমেক্সে প্রতি আউন্সে ৪,৩২০ ডলার হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্যান্স, যা টপকালে দাম ৪,৩৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সোনার সামগ্রিক ট্রেন্ড এখনও অত্যন্ত ইতিবাচক রয়েছে, তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘বাই অন ডিপস’ বা দাম কিছুটা নামলেই কেনাকাটা শুরু করার কৌশল মেনে চলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।