“ভোটারদের জন্য ‘আল্টিমেট গাইড’!”-কাল বুথে যাওয়ার আগে এই নিয়মগুলি মানতেই হবে

রাত পোহালেই রাজ্যের হাইভোল্টেজ দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে চলবে ভোটগ্রহণ। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের সুবিধার্থে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কী কী মানতে হবে, বুথে যাওয়ার আগে দেখে নিন একনজরে।

ভোটের সময় ও প্রস্তুতি

বুধবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটারদের অনুরোধ করা হয়েছে যথাসম্ভব সকালে ভোট দিয়ে দিতে। সঙ্গে অবশ্যই ভোটার কার্ড বা বৈধ পরিচয়পত্র রাখবেন। ভোটার স্লিপ না পেলেও চিন্তার কারণ নেই, ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই আপনি ভোট দিতে পারবেন।

পরিচয়পত্র হিসেবে কী কী গ্রহণযোগ্য?

ভোট দেওয়ার প্রধান নথি হলো ভোটার কার্ড (EPIC)। তবে সেটি সাথে না থাকলে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে:

  • আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা পাসপোর্ট।

  • ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সরকারি চাকুরিজীবীদের পরিচয়পত্র।

  • ছবিসহ ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের পাসবুক।

  • পেনশনের নথি।

প্রবীণ ও বিশেষ সক্ষমদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

তীব্র গরম এবং ভিড়ের কথা মাথায় রেখে কমিশন এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে:

  • প্রতিটি বুথে থাকবে র‌্যাম্প ও হুইলচেয়ারের সুবিধা।

  • প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য থাকবে আলাদা লাইনের ব্যবস্থা।

  • পানীয় জল, শৌচাগার এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বুথেই থাকবে কিট।

  • দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল-যুক্ত EVM-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বুথে যে ভুলগুলি ভুলেও করবেন না

১. মোবাইল নিষিদ্ধ: ভোটকেন্দ্রের ভেতর মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষেধ। ২. ছবি তোলা: ভোট দেওয়ার সময় বা ইভিএম-এর ছবি তোলা বা ভিডিও করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ধরা পড়লে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ৩. রাজনৈতিক চিহ্ন: কোনো দলের প্রতীক আঁকা জামা বা সামগ্রী নিয়ে বুথে ঢোকা যাবে না। ৪. উপহার বা টাকা: কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে উপহার বা নগদ অর্থ গ্রহণ আইনত অপরাধ।

ভোট দেওয়ার পর যা যাচাই করবেন

ইভিএম-এ পছন্দের প্রার্থীর পাশের নীল বোতামটি টেপার পর পাশের ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্ক্রিনের দিকে নজর দিন। সেখানে ৭ সেকেন্ডের জন্য একটি স্লিপ দেখা যাবে, যেখানে আপনি যাকে ভোট দিয়েছেন তাঁর নাম ও প্রতীক থাকবে। যদি স্লিপ না দেখা যায় বা বিপ শব্দ না হয়, তবে তৎক্ষণাৎ প্রিসাইডিং অফিসারকে জানান।

অভিযোগ জানাবেন কোথায়?

ভোট চলাকালীন কোথাও কোনো অশান্তি বা নিয়মভঙ্গ দেখলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ‘cVIGIL’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন। ছবি বা ভিডিও তুলে পাঠালে ১০০ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কমিশন। এছাড়া ১৯৫০ হেল্পলাইন নম্বর তো রয়েছেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy