গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে এবার দিতে হবে ‘ডিজিটাল পরীক্ষা’! কমিশনের নতুন চাল দেখে মাথায় হাত রাজনৈতিক দলগুলোর

৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা। আর সেই মহারণের আগে রাজ্যের প্রতিটি গণনাকেন্দ্রকে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করতে কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। এবারের নিরাপত্তায় আর কেবল পুলিশি পাহারা বা সাধারণ পরিচয়পত্রে ভরসা রাখা হচ্ছে না। জালিয়াত ও অনুপ্রবেশ রুখতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিটি কাউন্টিং এজেন্টের জন্য ‘কিউআর কোড’ (QR Code) যুক্ত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করছে কমিশন।

কমিশন সূত্রে খবর, প্রতি বছরই গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রবেশ করার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। এবার সেই সমস্ত ফাঁকফোকর বন্ধ করতে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

কী এই নতুন ব্যবস্থা? এবার থেকে কাউন্টিং এজেন্ট, প্রার্থী বা নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের যে পাস দেওয়া হবে, তাতে একটি বিশেষ কিউআর কোড থাকবে। গণনাকেন্দ্রের প্রবেশপথে কমিশনের কর্মীরা স্ক্যানার দিয়ে সেই কোড যাচাই করবেন। স্ক্যান করার সাথে সাথেই ওই ব্যক্তির নাম, ছবি এবং অনুমোদিত কেন্দ্রের যাবতীয় তথ্য স্ক্রিনে ফুটে উঠবে। যদি কোনো কার্ডের তথ্যে গরমিল পাওয়া যায়, তবে সেই ব্যক্তিকে তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

নিরাপত্তার আরও কিছু বিশেষ দিক:

  • ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা: কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নজরদারিতে থাকবে প্রতিটি প্রবেশপথ।

  • ডিজিটাল মনিটরিং: কিউআর কোড সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল টাইমে জানা যাবে কতজন কেন্দ্রের ভেতরে রয়েছেন।

  • জালিয়াতি রুখতে কড়াকড়ি: পরিচয়পত্র কোনোভাবেই অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যাবে না, যা স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়ে যাবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের এই হাইটেক উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। একদিকে যেমন ভুয়ো অনুপ্রবেশকারী আটকানো যাবে, অন্যদিকে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে অপ্রীতিকর ঘটনাও এড়ানো সম্ভব হবে। এখন কেবল ৪ মে-র অপেক্ষা, যেদিন এই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপেই নির্ধারিত হবে বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

Pratik Saha
  • Pratik Saha