দক্ষিণবঙ্গ হোক বা উত্তরবঙ্গ—গত কয়েক বছরে কালবৈশাখী আর বর্ষার মরসুমে মেঘের গর্জনের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লাশের সংখ্যা। আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি বছর বজ্রপাতে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। প্রকৃতির এই মরণখেলার সামনে মানুষ অসহায় হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন সঠিক সতর্কতা ও সচেতনতাই পারে এই অকাল মৃত্যু রুখতে।
কেন রাজ্যে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বাড়ছে এবং এই মারণ বিপর্যয় থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে? রইল বিশেষজ্ঞদের দেওয়া জরুরি গাইডলাইন:
বজ্রপাতের সময় যে ভুলগুলো একদম করবেন না:
গাছের নিচে আশ্রয়: মাঠের মাঝে একা দাঁড়িয়ে থাকা বড় গাছের নিচে ভুলেও দাঁড়াবেন না। বজ্রপাতের সময় উঁচু ও একা গাছ সবথেকে বেশি বিদ্যুৎ আকর্ষণ করে।
জলাশয় থেকে দূরে থাকুন: পুকুর, নদী বা কোনো জলাশয়ে মাছ ধরা বা স্নান করা অবিলম্বে বন্ধ করুন। জল বিদ্যুতের সুপরিবাহী, তাই এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বৈদ্যুতিন যন্ত্রের ব্যবহার: বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, ল্যাপটপ চালানো বা ল্যান্ডলাইন ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বাড়ির মেইন সুইচ বা প্লাগ খুলে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
নিরাপদ থাকতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:
পাকা দালান বা গাড়ি: মেঘ ডাকলে বা বাজ পড়া শুরু হলে দ্রুত কোনো পাকাবাড়ি বা কংক্রিটের ছাদের নিচে আশ্রয় নিন। টিনের চালা বা কাঁচা বাড়ির চেয়ে পাকা বাড়ি অনেক বেশি নিরাপদ। যদি আপনি গাড়ির ভেতরে থাকেন, তবে জানলা বন্ধ করে গাড়ির ভেতরেই বসে থাকুন।
উঁচু জায়গা বর্জন: কোনো টাওয়ার, ইলেকট্রিক পোল বা পাহাড়ের চূড়ায় থাকবেন না। সমতল জায়গায় থাকলে নিচু হয়ে বসে পড়ুন, কিন্তু মাটিতে শুয়ে পড়বেন না।
৩০-৩০ নিয়ম: বিশেষজ্ঞরা ‘৩০-৩০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ, বিদ্যুৎ চমকানোর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে যদি মেঘের ডাক শোনেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। আর শেষবার মেঘ ডাকার পর অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের বাইরে বেরোবেন না।
প্রকৃতিকে আটকানো অসম্ভব, কিন্তু সামান্য সচেতনতা বড়সড় বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। নিজের জীবন বাঁচাতে এবং অন্যদের সতর্ক করতে এই তথ্যগুলো মেনে চলা এখন সময়ের দাবি।





