বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা, তা নিয়ে প্রতি বছরই রিপোর্ট প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (RSF)। ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বা বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকের যে সাম্প্রতিক তথ্য সামনে এসেছে, তা ভারতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ১৮০টি দেশের তালিকায় ভারত এবার ১৫৭তম স্থানে নেমে গিয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ ধাপ নিচে।
পাকিস্তান ও প্যালেস্তাইনের চেয়েও পিছিয়ে ভারত? এই রিপোর্টের সবথেকে চমকপ্রদ এবং বির্তকিত দিক হলো ভারতের অবস্থান। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান (১৫৩) এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত প্যালেস্তাইন (১৫৬)—উভয় দেশই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিচারে ভারতের থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নেপাল (৮৭), ভুটান (১৫০) এবং বাংলাদেশ (১৫২) ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে। একমাত্র চীন (১৭৮) এবং উত্তর কোরিয়ার মতো কয়েকটি দেশ ভারতের নিচে অবস্থান করছে।
কেন এই ভয়ংকর পতন? ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে সাংবাদিকদের কাজ করার পরিবেশ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এর পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:
আইনি চাপ: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো কঠোর আইনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার।
হিংসা ও নিগ্রহ: স্বাধীনচেতা সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিকল্পিত ঘৃণা ছড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি।
মালিকানার প্রভাব: বড় বড় করপোরেট সংস্থাগুলোর হাতে সংবাদমাধ্যমের মালিকানা চলে যাওয়ায় নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
বিশ্বের পরিস্থিতি: এবারের সূচকেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নরওয়ে। এরপরই রয়েছে নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া। অন্যদিকে তালিকার একদম নিচে রয়েছে ইরিত্রিয়া। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে সাংবাদিকতার মান আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘বিপজ্জনক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তি হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমের এই ক্রমাবনতি নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক এই রিপোর্টের পর দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কোনো নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না।





