‘ভুয়ো তথ্যের ফাঁদে পা দেবেন না’! প্রধানমন্ত্রীর সভা নিয়ে জাল নোটিশ, কড়া বার্তা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং ইন্টারনাল নম্বর নিয়ে একটি ভুয়ো চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল, অনুষ্ঠানে যোগ দিলেই ছাত্রছাত্রীরা ৫০টি ইন্টারনাল নম্বর পাবেন। যদিও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে খণ্ডন করেছে।
ভুয়ো চিঠিতে কী দাবি করা হয়েছিল?
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই জাল নোটিশে বলা হয়, দেবভূমি উত্তরাখণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.টেক (সি.এস.ই. ও স্পেশালাইজেশন) এবং বি.সি.এ. দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের প্রধানমন্ত্রী মোদির অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।
আরও দাবি করা হয় যে, এই উপস্থিতি তাঁদের ‘ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা’ কোর্সের অংশ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রতিটি অংশগ্রহণকারীকে ৫০টি ইন্টারনাল নম্বর দেওয়া হবে। এই চিঠিটিই বিতর্কের সূত্রপাত করে।
কংগ্রেসের তোপ: ‘নম্বর দিয়ে লোক জোগাড়’
ভুয়ো চিঠিটি ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে হইচই পড়ে যায়। আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, “মোদির সভায় যোগ দিলে ৫০ নম্বর! আর ‘মোদি মোদি’ স্লোগান দিলে কত নম্বর?”
উত্তরাখণ্ড কংগ্রেসের মুখপাত্র গরিমা মেহরা দাসাউনি সরাসরি অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মী জোগাড় করতে না পেরে ছাত্রছাত্রীদের ৫০ নম্বরের লোভ দেখিয়ে জোর করে সভায় পাঠাতে চাইছে।
পিআইবি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়া বার্তা
বিতর্ক চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কেন্দ্র সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে আসল সত্য তুলে ধরে।
১. প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB): PIB তাদের ফ্যাক্ট-চেক করে জানায়, চিঠিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তারা সতর্ক করে: “এ ধরনের ভুয়ো তথ্যের ফাঁদে পা দেবেন না। কেবলমাত্র নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্রের তথ্য বিশ্বাস করুন।” ২. দেবভূমি উত্তরাখণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পৃথক বিবৃতিতে জানায়, এটি তাদের কোনো অফিসিয়াল নোটিশ নয়, এতে অনুমোদিত স্বাক্ষর বা রেফারেন্স নম্বর নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কঠোর ভাষায় জানান, এই ভুয়ো চিঠির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে যেমন উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষকেও ভুয়ো তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।