ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় ‘বুম’! রপ্তানি ৫০ গুণ বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা

সামরিক আধুনিকায়ন এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে ভারত। কোটাক ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজ (Kotak Institutional Equities)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা মূলধনী ব্যয় ১১ শতাংশ বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হারে (CAGR) বৃদ্ধি পাবে। এই দশকের শেষে তা ২.৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টের প্রধান দিকগুলি:
দেশীয় প্রযুক্তিতে জোর: ‘পজিটিভ ইনডিজেনালাইজেশন লিস্ট’ এবং ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন প্রসিডিউর ২০২০’-এর মতো সরকারি নীতি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে ৫০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদানের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। এর ফলে দেশি সংস্থাগুলোর বাজারদর ক্রমশ বাড়ছে।
রপ্তানিতে রেকর্ড: গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৫০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকা ছাড়াও বর্তমানে ইউরোপ এবং আর্মেনিয়া ভারতীয় অস্ত্রের বড় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। ২০২৯ অর্থবর্ষের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন টাকা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
ড্রোন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর: আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে ড্রোনের গুরুত্ব অপরিসীম। আগামী এক দশকে ভারত ড্রোন প্রযুক্তিতে প্রায় ২৫-৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমে ৪-৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে রিপোর্ট জানাচ্ছে।
বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান: বর্তমানে ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সামরিক ব্যয়ের দেশ (৮৪ বিলিয়ন ডলার)। প্রতিবেশী দেশগুলোর সামরিক আধিপত্য এবং পুরোনো পরিকাঠামোর আধুনিকায়নের জন্য ভারতের এই ব্যয় বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
দেশি সংস্থাগুলোর রমরমা ব্যবসা: গত কয়েক বছরে ডমেস্টিক প্রকিউরমেন্ট বা দেশীয় সংগ্রহের হার ৫৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। জিও-পলিটিক্যাল উত্তেজনার আবহে দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো অভাবনীয় মুনাফা করছে। তাদের রাজস্ব বৃদ্ধি ঘটছে ২৬ শতাংশ হারে, যা বিশ্ব গড়ের (১১ শতাংশ) চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। ২০২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই কোম্পানিগুলির ইবিআইটিডিএ (EBITDA) মার্জিন ৫০০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মূল্যায়ন ও সম্ভাবনা: ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো বিশ্বমানের কোম্পানিগুলোর তুলনায় ৫০ শতাংশ প্রিমিয়াম ভ্যালুয়েশনে ট্রেড করছে। যদিও গবেষণায় (R&D) খরচ বিশ্ব গড়ের তুলনায় কিছুটা কম, তবুও দ্রুত বর্ধনশীল রাজস্ব এবং সরকারি সহায়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে এই খাতটি।