সেন্সর বোর্ডের কোপে দিলজিতের ‘সতলুজ’! মুক্তির দু’দিনেই ওটিটি থেকে কেন গায়েব সিনেমা?

বলিউড ও পঞ্জাবি সুপারস্টার দিলজিৎ দোসাঞ্জের বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সতলুজ’ মুক্তির পরপরই ঘিরে ফেলল চরম বিতর্ক। জি ফাইভ (Zee5) প্ল্যাটফর্মে মুক্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হঠাৎ সিনেমাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। কেন এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তা নিয়ে দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে মুখ খুলেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। সরকারের দাবি, এই ছবিটি কোনো সেন্সর ছাড়পত্রই পায়নি, ফলে এর স্ট্রিমিং সম্পূর্ণ বেআইনি।

ঘটনার গভীরে গিয়ে জানা গেছে, সিনেমাটির আদি নাম ছিল ‘পঞ্জাব ৯৫’। সেন্সর বোর্ডের আপত্তির মুখে নাম বদলে ‘সতলুজ’ রাখা হলেও, ছবির মূল সমস্যার সমাধান হয়নি। সেন্সর বোর্ড সিনেমাটিতে ১২৭টি দৃশ্য ছেঁটে ফেলার কড়া নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পরিচালক হানি ত্রেহান ও ছবির নির্মাতারা সেই নির্দেশ পুরোপুরি মানেননি বলেই অভিযোগ। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়াই ছবিটি ওটিটিতে স্ট্রিম করা শুরু হয়, যা ভারতীয় তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র আইনের পরিপন্থী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সেন্সর সার্টিফিকেশন ছাড়া কোনো সিনেমা জনসমক্ষে প্রদর্শন বা স্ট্রিম করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

এই বিতর্কিত ছবিটির প্রেক্ষাপট অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ১৯৯০ সালে পঞ্জাবে ২৫ হাজারেরও বেশি শিখ যুবকের নিখোঁজ হওয়া এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই সিনেমা। প্রাক্তন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার ও মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিংয়ের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই গল্প ১৯৯৫ সালে তাঁর অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের নির্মম বাস্তব তুলে ধরে। যে মামলায় পরবর্তীতে ছয়জন পুলিশ অফিসার দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ২০২২ সালে তৈরি হওয়া এই ছবিটির শুরু থেকেই সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে নির্মাতাদের সংঘাত চলছিল। পরিচালক হানি ত্রেহানের দাবি, বোর্ডের নির্দেশমতো ১২৭টি দৃশ্য কাটলে ছবির মূল ভাবনাই নষ্ট হয়ে যেত।

সরকার কেবল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই ছবিটি সরায়নি, বরং যে রাজ্যগুলিতে এই ছবি স্ট্রিম হচ্ছে, সেখানকার প্রশাসনকেও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে কড়া ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এখনও পর্যন্ত দিলজিৎ দোসাঞ্জ বা ছবির প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। তবে সেন্সর বোর্ডের নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এভাবে ছবি মুক্তি দেওয়ায় যে বড় আইনি জটে জড়িয়েছেন নির্মাতারা, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াইয়ের পর ছবিটি আদৌ কোনোদিন মুক্তি পায় কি না, নাকি সেন্সর বোর্ডের কাঁচিতেই চিরতরে হারিয়ে যায় এই বিতর্কিত আখ্যান।