মহুয়া মৈত্রের স্বস্তির নিঃশ্বাস, ২১ জুলাই পর্যন্ত সাংসদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের!

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ওঠা আইনি জটিলতায় কিছুটা স্বস্তির বার্তা এল কলকাতা হাইকোর্ট থেকে। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে সাংসদের দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনোপ্রকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে না। আদালতের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ আপাতত সাংসদকে এক বড় রক্ষাকবচ দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঘটনার সূত্রপাত কৃষ্ণনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই এলাকায় একদল বিক্ষোভকারী মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই সাংসদ নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, নিজের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আক্রান্ত হওয়ার পরেও পুলিশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে পিছিয়ে রয়েছে। উল্টোদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তাতে পুলিশ অত্যন্ত তৎপর। মহুয়ার দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার পরিবর্তে তাঁকেই আইনি বেড়াজালে ফেলার চেষ্টা চলছে।
আদালতে সাংসদের পক্ষের আইনজীবীরা জোরালো সওয়াল করেন। তাঁরা দাবি করেন, একজন জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা ও সম্মান আজ প্রশ্নের মুখে। বিক্ষোভকারীদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনজীবীরা জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই মামলা সাজানো হয়েছে। আদালতকে তাঁরা বোঝাতে সক্ষম হন যে, এই পরিস্থিতিতে সাংসদের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি কোনো পদক্ষেপ নিলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকেও মামলার বিভিন্ন দিক আদালতে পেশ করা হয়। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত সাংসদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে পুলিশকে। বিচারপতি এই নির্দেশ দেওয়ায় আপাতত স্বস্তি পেলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
উল্লেখ্য, আগামী ২১ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে হাইকোর্ট। সেই শুনানিতে মামলার গুণাগুণ এবং এর নেপথ্যে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। কৃষ্ণনগরের ঘটনাকে ঘিরে যেভাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তাতে আদালতের এই অন্তর্বর্তী রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা। ২১ জুলাই হাইকোর্টের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এবং রাজ্য রাজনীতি।