অশান্ত মণিপুর: সেনাক্যাম্পে পাথরবৃষ্টি ও অগ্নিসংযোগ, মধ্যরাতে রণক্ষেত্র সেনাপতি জেলা

মণিপুরের সেনাপতি জেলায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় একটি জনতা আসাম রাইফেলসের ক্যাম্পে অতর্কিতে হামলা চালায়। উত্তেজিত জনতা ক্যাম্পে ব্যাপক পাথরবৃষ্টি, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল মাকুইলংডি এলাকায় একটি তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন এনএসসিএন (আইএম)-এর বেশ কিছু ক্যাডার অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক পোশাক পরে ওই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক নারী, নিরাপত্তা বাহিনীর পথ আটকে দাঁড়ান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিরাপত্তা বাহিনী চরম সংযম প্রদর্শন করে এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আশ্বস্ত করে যে, অনুমতি ছাড়া তারা গ্রামে প্রবেশ করবে না। কিন্তু রাত বাড়ার সাথে সাথেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রায় হাজারখানেক মানুষ আসাম রাইফেলসের ক্যাম্পে চড়াও হয়। শুরু হয় ব্যাপক ভাঙচুর এবং ক্যাম্পের ভেতরে আগুন লাগানোর চেষ্টা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী বাধ্য হয়ে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এই অভিযানে মণিপুর পুলিশ ও সিআরপিএফ-ও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। হিংসার এই তাণ্ডবে আসাম রাইফেলসের একটি হালকা গাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং দুটি ট্রাক উল্টে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। একটি ব্যক্তিগত গাড়িও এই অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে মধ্যরাতের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্বস্তির খবর এটাই যে, এই বড় ধরনের উত্তেজনার মাঝেও কোনো বেসামরিক মানুষ বা নিরাপত্তা কর্মী আহত হননি।
অন্যদিকে, রাজ্যজুড়ে অস্থিরতা কমাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব এবং চুড়াচাঁদপুর জেলায় গত মঙ্গলবার থেকে চলা একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল ও একটি পিস্তলসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালেও মণিপুর পুলিশ এবং ৩৩ আসাম রাইফেলসের একটি যৌথ দল ইম্ফল পশ্চিম জেলার লোকটাক হ্রদের অদূরে ইশোক মামাং লেইকাই এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেও জঙ্গিদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বিশাল ভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছে।
বর্তমানে সেনাপতি জেলার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এলাকাটিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। তবে এই ধরণের ঘটনা রাজ্যে শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।