মৃত্যুর মুখে সোনম ওয়াংচুক! ১৮ দিনের অনশনে কি বড় বিপদের দিকে এগোচ্ছেন পরিবেশকর্মী?

দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের লড়াই এখন চরম পর্যায়ে। ইউজি নিট (UG NEET) ২০২৬ এবং অন্যান্য সর্বভারতীয় পরীক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ১৮ দিন ধরে আমরণ অনশনে বসেছেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তাঁর এই আন্দোলনের সমর্থনে সরব হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তবে দীর্ঘ অনশনের ফলে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বুধবার যন্তর মন্তরে সিজেপি-র চলমান আন্দোলনের ২৫তম দিন এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশনের ১৮তম দিন। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা প্রতি মুহূর্তে অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ১৮ দিনে তাঁর ওজন প্রায় সাড়ে আট কেজি কমে গেছে। রক্তচাপ বর্তমানে ১০৯/৭০-এর ঘরে নেমে এসেছে, যা আশঙ্কাজনক। এর চেয়েও গুরুতর বিষয় হলো, দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর শরীরের পেশি ক্ষয় (muscle wasting) শুরু হয়েছে এবং তিনি তীব্র শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমি ওঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করলে উনি অত্যন্ত শান্ত স্বরে উত্তর দেন— ‘আমাকে অনশন ভাঙতে বোলো না। বরং সরকারকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো, কেন তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনাতেই বসছে না’।” এই অনমনীয় মানসিকতা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি লড়াই থেকে পিছু হঠবেন না। ইতিমধ্যে, ওয়াংচুকের প্রাণের ঝুঁকি বিবেচনা করে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি ও জোর করে খাওয়ানোর নির্দেশ চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিজেপি-র দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। তারা অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাইছে। পাশাপাশি, পরীক্ষার দুর্নীতির কারণে যেসব মেধাবী শিক্ষার্থী হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে, তাদের প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জোরালো হয়েছে।

গত ২৮ জুন এই আন্দোলনে শামিল হন ওয়াংচুক। দিল্লির তীব্র গরম এবং দীর্ঘ অনশন সত্ত্বেও তিনি নিজের অবস্থানে অবিচল। সরকার কেন এই বিশাল জনরোষ এবং একজন জননেতার শারীরিক অবনতি সত্ত্বেও নীরব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। এখন দেখার বিষয়, আদালত বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ আসে কি না, নাকি এই অনশন আরও কোনো বড় ট্র্যাজেডির দিকে এগিয়ে যায়।