উদ্ধব ঠাকরের বার্তা কি কাজ করল? নাসিকের কাউন্সিলরদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী হল?

মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফের উত্তাপ বাড়িয়েছে নাসিকের শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) কাউন্সিলরদের নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি। দলীয় অন্দরে ভাঙনের জোর জল্পনা এবং একনাথ শিন্ডের শিবসেনার সাথে যোগাযোগের গুঞ্জনের মধ্যেই বুধবার মুম্বাইয়ের মাতোশ্রীতে তলব করা হয় নাসিকের সমস্ত কাউন্সিলরকে। এই জরুরি তলব রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। তবে, নির্ধারিত বৈঠকে নাসিকের সমস্ত কাউন্সিলর উপস্থিত হওয়ায় আপাতত কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে উদ্ধব ঠাকরে শিবির।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক অলিন্দে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল যে, নাসিকের প্রায় ১০ থেকে ১২ জন কাউন্সিলর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট এবং তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই খবর চাউর হতেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নড়েচড়ে বসে। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কাউন্সিলরদের আনুগত্য নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মাতোশ্রীতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দলের বর্ষীয়ান নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনোভাবেই দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নষ্ট করা যাবে না। পাশাপাশি, কাউন্সিলরদের ব্যক্তিগত অভাব-অভিযোগ শোনা এবং সাংগঠনিক অবস্থান পর্যালোচনার মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছেন উদ্ধব ঠাকরে।
নাসিকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্রে শিবসেনার শক্ত ঘাঁটি অটুট রাখা উদ্ধব শিবিরের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মুখে কাউন্সিলরদের মধ্যে এই ধরণের বিভাজনের গুঞ্জন দলের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারত। তবে, বুধবারের বৈঠকে সকল কাউন্সিলরের হাজিরা এক প্রকার বার্তা দিল যে, উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বের ওপর তারা এখনো আস্থা রাখছেন।
যদিও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, আপাতদৃষ্টিতে কাউন্সিলররা মাতোশ্রীতে উপস্থিত হলেও, অন্তর্দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। আসন্ন দিনগুলোতে নাসিকের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, বিশেষ করে নির্বাচনের টিকিট বণ্টন বা স্থানীয় স্তরে ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস কীভাবে হয়, তার ওপর নির্ভর করবে কতজন শেষ পর্যন্ত উদ্ধব শিবিরের সঙ্গে টিকে থাকেন। আপাতত, এই বৈঠক শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) নেতৃত্বের কাছে তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং বিদ্রোহীদের সতর্ক করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।