বিশ্বকাপের শুরুতেই রণক্ষেত্র মেক্সিকো, স্টেডিয়ামে জোর করে ঢোকার চেষ্টায় বোমাবাজি, আহত পুলিশ!

বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) আসর মানেই উৎসব আর উন্মাদনা। কিন্তু ঘরের মাঠে আয়োজিত প্রথম ম্যাচেই যে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে, তা বোধহয় দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি মেক্সিকো। মেক্সিকোর বিখ্যাত অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে উদ্বোধনী ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে যে বিশৃঙ্খলা ও হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা সাম্প্রতিক ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।
ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের আট নম্বর গেটের বাইরে যখন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী প্রবেশের অপেক্ষায়, তখনই আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুখ ঢাকা একদল বিক্ষোভকারী হঠাৎই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর এবং বোতল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন তারা পেট্রল বোমা বা মোলোভ ককটেল ব্যবহার করে গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালায়। এই নজিরবিহীন হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া, স্টেডিয়ামের আশেপাশের এলাকায় বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি জায়গায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশি অভিযানে ইতিমধ্যেই অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচুর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। জানা গেছে, প্রায় ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী এই তাণ্ডবে সরাসরি জড়িত ছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বিক্ষোভ নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা। তবে স্থানীয় সূত্রে খবর, টুর্নামেন্ট শুরুর অনেক আগে থেকেই মেক্সিকো শহরে নিখোঁজ হওয়া প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষের পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিক্ষোভ চলছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বকাপের চাকচিক্যের আড়ালে দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলোকে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার, আর সেই ক্ষোভ থেকেই এই হামলার ঘটনা। প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউমের সরকারের ওপর ইতিমধ্যেই পর্যটকদের চাপ ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে প্রবল চাপ রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের চেয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনকে সরকার বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ঔজ্জ্বল্য অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। স্টেডিয়ামের বাইরের এই হিংসাত্মক দৃশ্য সারা বিশ্বের কাছে মেক্সিকোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপ যেখানে সম্প্রীতির বার্তা বহন করে, সেখানে উদ্বোধনী ম্যাচেই এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকোর সম্মানকে বড়সড় ধাক্কা দিল। আপাতত স্টেডিয়ামের পরিস্থিতি শান্ত হলেও, এই ঘটনায় পুরো টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজক কমিটি এবং ফিফা কর্মকর্তাদের চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হলো।