শেয়ার বাজারে ঝড়, এক নিমেষেই ১ লক্ষ কোটির মালিক মাস্ক! আপনি জানেন কি কীভাবে?

ইলন মাস্ক আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্বপ্নদ্রষ্টা ও সফলতম ব্যবসায়ী বলা হয়। ১২ জুন, ২০২৬, শুক্রবার শেয়ার বাজারে ‘স্পেস-এক্স’ (SpaceX)-এর ঐতিহাসিক আত্মপ্রকাশের সাথে সাথেই ইলন মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ‘ট্রিলিয়নার’ (Trillionaire) বা ১ লক্ষ কোটি ডলারের মালিক হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। নাসডাক (Nasdaq) এক্সচেঞ্জে স্পেস-এক্সের শেয়ারের দাম ঝড়ের গতিতে বেড়ে মাস্ককে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

শেয়ার বাজারের অবিশ্বাস্য জাদু
স্পেস-এক্সের আইপিও (IPO) ছিল শেয়ার বাজারের ইতিহাসে বৃহত্তম। ১৩৫ ডলার মূল্যে বাজারে আসা শেয়ারের দাম প্রথম দিনেই ১১ শতাংশ বেড়ে ১৫০ ডলারে পৌঁছায় এবং দিনের শেষে তা ১৭২ ডলারের গণ্ডি স্পর্শ করে। এই সাফল্যের ফলে স্পেস-এক্সের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২.১৮ ট্রিলিয়ন ডলার। মূলত স্পেস-এক্স এবং টেসলা (Tesla)-র শেয়ারের আকাশচুম্বী দামই মাস্কের মোট সম্পদকে ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে।

কেন এই বিপুল মূলধন?
মাস্কের এই ধনকুবের হওয়ার যাত্রার পিছনে রয়েছে এক বিশাল স্বপ্ন। ইলন মাস্কের লক্ষ্য কেবল পৃথিবীতে সীমাবদ্ধ নয়, তিনি মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ, ডেটা সেন্টার এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের স্থায়ী কলোনি গড়ার পরিকল্পনা করছেন। স্পেস-এক্সকে শেয়ার বাজারে আনার মূল উদ্দেশ্যই হলো সেই মহাজাগতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ মূলধন সংগ্রহ করা। পাশাপাশি এআই (AI) প্রযুক্তির দৌড়ে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিতে তার রকেট কোম্পানিটি এখন সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে।

টাকা নয়, ভবিষ্যতে চাকরি হবে ‘শখ’
মাস্কের দর্শন শুধু সম্পদে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং হিউম্যানয়েড রোবটরা ভবিষ্যতে এত বেশি উৎপাদনশীল হয়ে উঠবে যে মানুষের অভাব দূর হবে। মাস্কের মতে, সেই সময় টাকা-পয়সার প্রথাগত মূল্য থাকবে না এবং কঠোর পরিশ্রমের পরিবর্তে চাকরি করাটা মানুষের জন্য একটি বিনোদন বা শখ হিসেবে গণ্য হবে।

বর্তমানে ইলন মাস্কের এই ব্যক্তিগত সম্পদ অনেকের জিডিপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় তার এই একাধিপত্য আগামী দিনে মানব সভ্যতাকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।