বিয়ের আগের রাতে প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! গ্রামবাসীদের গণপিটুনিতে মৃত্যু যুবকের

উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিয়ের আগের দিন প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গ্রামবাসীদের হাতে গণপিটুনির শিকার হয়ে মৃত্যু হল ৩৫ বছর বয়সী রবি নামে এক যুবকের।
জানা গেছে, ১৮ বছর বয়সী প্রেমিকা মনীষার বিয়ে জোর করে ঠিক করে দিয়েছিল পরিবার। এই খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে মনীষার বাড়িতে পৌঁছন রবি। সেখানেই তিনি পরিবারের লোকজনের হাতে ধরা পড়েন।
অভিযোগ, প্রথমে পরিবারের লোকজন রবিকে ধরে মারধর শুরু করেন। এরপর তাঁকে একটি গাছে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গ্রামের অন্যান্য লোকেরাও এই গণপিটুনিতে যোগ দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় রবি যখন জল চেয়েছিলেন, তখনও তাঁকে এক ফোঁটা জল দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিস্থিতি ভয়াবহ বুঝে মনীষার কাকা, পিন্টু (৩৫) আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবি ও পিন্টুকে মৌদাহা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা রবিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত পিন্টুকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রেমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে মনীষাও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৌদাহা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
যদিও মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে রবির পরিবারের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। মনীষার পরিবারের দাবি, রবিই নাকি প্রথমে পিন্টুর উপর হামলা চালান। মনীষার ঠাকুমার দাবি, “আমি মৌদাহা গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি রবি এসেছেন। মেয়েটি চিৎকার করতেই সে পিন্টুকে ছুরি মারে। এর আগেও ওই লোকটা মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছিলেন। তখন থেকেই ওঁর মধ্যে রাগ জমেছিল।” মনীষার কাকিমা (পিন্টুর স্ত্রী) জানান, রবি দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন। দরজা খুলতেই তিনি ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
হামিরপুরের পুলিশ সুপার দীক্ষা শর্মা জানিয়েছেন, দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদের জেরে এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দু’জন গুরুতর অসুস্থ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।