“জুতো-ঝাঁটা দিয়ে পিটিয়ে গ্রামছাড়া করুন”- মহিলাদের উদ্দেশে TMC নেতার নিদান ঘিরে বিতর্ক!

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে। এর মধ্যেই বাঁকুড়ার তৃণমূল নেতার একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য সামনে আসতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বাঁকুড়া শহর সভাপতি এবং জেলা পরিষদের সদস্য শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এসআইআর (SIR) নিয়ে বিজেপি নেতারা গ্রামে গিয়ে ‘হাওয়া গরম’ করার চেষ্টা করলে, সাধারণ মানুষ যেন তাঁদের ঝাঁটা ও জুতো দিয়ে মেরে গ্রামছাড়া করেন।

 

তৃণমূল নেতার ‘মারমুখী’ নিদান

বুধবার বিকেলে বাঁকুড়ার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মহিলা তৃণমূলের এক সভায় বক্তব্য পেশ করার সময় শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্তব্য করেন। মহিলাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন:

🗣️ “আমরা জীবন দিতে রাজি আছি। কিন্তু বিজেপির মতো ধান্দাবাজদের দলকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না। বিজেপির যাঁরা SIR করতে যাবে, তাঁদের জুতো, ঝাঁটা দিয়ে পিটিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেবেন।

 

বিজেপির পাল্টা জবাব ও সংঘাতের আশঙ্কা

 

তৃণমূল নেতার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, “জেলা পরিষদের সদস্য হয়ে উনি কোনও কাজই করেননি। এখন বিজেপির নাম নিয়ে প্রচারের আলোয় আসতে চাইছেন, মানুষকে উস্কানি দিচ্ছেন।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন:

“তৃণমূলের লোকজন যদি এই এলাকায় ঢোকেন, বিজেপিরও টিম তৈরি আছে। সাধারণ মানুষও বিজেপির সঙ্গে। তাই মানুষ কাকে ঝাঁটা, জুতো দিয়ে মারবে, তা আগামিদিনে প্রমাণ হয়ে যাবে।”

 

শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা

 

যদিও বিতর্কের মুখে শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতারা ভোটার তালিকা নিয়ে রাস্তায় নেমে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন। তিনি বলেন: “এটা তো বিজেপির কাজ নয়, নির্বাচন কমিশনের কাজ। অথচ বিজেপি নেতারা রাস্তায় নেমে ভুল বোঝাচ্ছেন, চমকাচ্ছেন। এতে মানুষের ক্ষোভ হওয়াটাই স্বাভাবিক। গ্রামের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। বাংলায় অশান্তি করতে গেলে মানুষ কি ছেড়ে দেবে নাকি?”

বিজেপি অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, এসআইআর বিজেপি করছে না, করছে নির্বাচন কমিশন। তাদের লক্ষ্য একটাই— ভুয়ো ভোটার থাকলে, তাদের খুঁজে বের করা। এই পাল্টাপাল্টি হুমকি ও নিদান ঘিরে বাঁকুড়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত।