বিডিও’র গাড়িচালক ও বন্ধুর পর এবার কোচবিহারের ব্লক সভাপতি জালে! মোট ধৃতের সংখ্যা ৩

দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলা খুনের মামলায় (Duttabad Murder) আরও এক জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম সজল সরকার, যিনি কোচবিহারের বাসিন্দা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের এক ব্লক সভাপতি। সূত্রের খবর, সজল সরকার রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে বিধাননগর পুলিশ।
জেরায় উঠে আসছে একের পর এক নাম
এই মামলায় (Duttabad Murder) এর আগে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গাড়িচালক এবং তাঁর এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। বুধবার সজল সরকারকে গ্রেপ্তার করার পর এই ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা পৌঁছল তিনে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সজলের মাধ্যমে এই ঘটনার সূত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
কী ঘটেছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে?
নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নাম স্বপন কামিলা, যাঁর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের দিলামাটিয়া এলাকায়। দত্তাবাদে তাঁর একটি সোনার গয়নার দোকান ছিল। পরিবারের অভিযোগ, গত ২৮ অক্টোবর দোকান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। এরপর বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। কয়েকদিন পর নিউটাউনের যাত্রাগাছির বাগজোলা খালপাড়ের ঝোপ থেকে একটি দেহ উদ্ধার হয়, যা পরে পরিবারের সদস্যরা ছবি দেখে স্বপন কামিলার বলে শনাক্ত করেন।
পরিবারের সরাসরি অভিযোগ বিডিও-র বিরুদ্ধে
স্বপন কামিলার পরিবার সরাসরি দাবি করেছে, অপহরণ ও খুনে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন যুক্ত।
পরিবারের কথায়, স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে দত্তাবাদে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতেন। কিছুদিন আগে বিডিওর বাড়ি থেকে নাকি গয়না চুরি যায়, যা পরে স্বপন কামিলার দোকানে বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করেন বিডিও। সেই সূত্রেই প্রশান্ত বর্মন প্রথম দত্তাবাদে আসেন।
পরিবারের অভিযোগ, সেই বিরোধের জেরেই ২৮ অক্টোবর নীলবাতি গাড়ি নিয়ে ফের দোকানে হাজির হন প্রশান্ত বর্মন। পরিবারের দাবি, ওই গাড়ি থেকে বিডিওকে নামতে দেখা যায়, সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন। ওই গাড়িতেই স্বপন কামিলাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরদিন তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া তিন ধৃতকে—বিডিওর গাড়িচালক, তাঁর বন্ধু এবং তৃণমূল ব্লক সভাপতি সজল সরকার—একসঙ্গে জেরা করে পুরো ঘটনার (Duttabad Murder) ছক বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সরকারি গাড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে এই অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।