বাসস্ট্যান্ড থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ৩ অভিযুক্ত

বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মাইসুরু গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হলেন বছর তিরিশের এক বাঙালি আদিবাসী তরুণী। প্রাইভেট বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি লজে আটকে দলবেঁধে যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠল তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চাকরির সূত্রে কর্নাটকে বসবাসকারী ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিন অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে কর্নাটক পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও নির্যাতিতার দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই এক বন্ধুর জন্মদিনে মাইসুরু শহরে এসেছিলেন ওই তরুণী। রাতে অনুষ্ঠান সেরে বাস ধরে তাঁর কর্মক্ষেত্র টি নরসিপুরার ভাড়াবাড়িতে ফেরার কথা ছিল। সেইমতো টি নরসিপুরার একটি প্রাইভেট বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তাঁর কাছে দুই ব্যক্তি এসে কন্নড় ভাষায় লেখা একটি চিরকুট দেখিয়ে ঠিকানা জানতে চায়।

তরুণী কন্নড় পড়তে না পারায় তা পারেন না বলে জানান। অভিযোগ, এর পরই ঠিক সেই মুহূর্তে একটি ধূসর রঙের গাড়ি এসে থামে এবং সামনের আসনে বসা দুই ব্যক্তি জোরপূর্বক তাঁকে সেই গাড়িতে তুলে নেয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, গুঞ্জা নরসিমহাস্বামী টেম্পল রোড হয়ে অভিযুক্তরা তরুণীকে মুগুরের একটি লজে নিয়ে যায়। লজের ঠিক সামনে গাড়ি পার্ক করলে সন্দেহ হতে পারে, এই ভয়ে তারা অন্য একটি লজে প্রবেশ করে এবং সেখানে পালাক্রমে তাঁকে ধর্ষণ করে।

তরুণীর বুদ্ধিমত্তা ও পুলিশি গ্রেফতারি

নির্যাতিতার অভিযোগ, গণধর্ষণের পাশাপাশি অভিযুক্তরা তাঁকে খুনের হুমকি দেয় এবং তাঁর কাছে থাকা ৫ হাজার টাকা নগদ ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তবে চরম বিপদের মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে অসামান্য বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন ওই তরুণী। তিনি অভিযুক্তদের জানান যে তাঁর বাড়িতে আরও এক লক্ষ টাকা নগদ রাখা আছে।

এই লোভ দেখিয়ে অভিযুক্তদের তিনি নিজের ভাড়াবাড়ির দিকে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরই মধ্যে কোন উপায়ে যেন তিনি বাড়ির মালিককে পুরো বিষয়টি সংকেতে বা অন্যভাবে জানিয়ে দিতে সফল হন। বাড়ির মালিক তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেন। এদিকে বাড়ির কাছাকাছি আসার পর পুলিশের ভ্যান পিছু নিতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে অভিযুক্তরা নির্যাতিতাকে বাড়ির সামনেই ফেলে চম্পট দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং প্রথমে থানায় ও পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ঘটনার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ১৯ জুলাই থানায় গিয়ে লিখিত এফআইআর দায়ের করেন নির্যাতিতা। পুলিশ তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে কিরণ, কিশোর ও রায়ান নামের টি নরসিপুরারই বাসিন্দা ওই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।