ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের রেশ কাটেনি! অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও কেন কমল না পেট্রল-ডিজেল?

পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটাই কমেছে। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude) তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৪.৫৮ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ এর আগে এপ্রিলের শেষভাগে আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ব বাজারে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছিল এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের গণ্ডি পার করে ফেলেছিল। সেই আকাশছোঁয়া দামের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। গত ২৫ মে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি এক ধাক্কায় পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ২.৭১ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও দেশের খুচরা বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে এবং কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এর ফলে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও ভারতীয় বাজারে তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। দেশের মেট্রো শহরগুলিতে জ্বালানির দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে আকাশছোঁয়া হয়েই টিকে রয়েছে। আজ দেশের বিভিন্ন মেট্রো শহরে জ্বালানির খুচরা মূল্যের খতিয়ান দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম এখনও ১০০ টাকার উপরেই অনড় রয়েছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল ১০২.১২ টাকায় এবং ডিজেল প্রতি লিটার ৯৫.২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১১১.২১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৭.৮৩ টাকা ধার্য করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য প্রধান শহরগুলির মধ্যে কলকাতা, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদেও পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ১১০ টাকার গণ্ডি অনায়াসে ছাড়িয়ে গেছে। কলকাতার বাজারে আজ প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৩.৫১ টাকা এবং ডিজেল ৯৯.৮২ টাকায় বিকোচ্ছে। পাশাপাশি, বেঙ্গালুরুতে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১১.৬৮ টাকা এবং ডিজেল ৯৯.৫৬ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে একমাত্র হায়দরাবাদেই ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১০৩.৮২ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তনের পর খুচরা বাজারে কবে স্বস্তি মিলবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে মধ্যবিত্ত সমাজ।