“এইভাবে চললে আইন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে!”- সুপ্রিম কোর্টে কপিল সিবাল!

সংবিধানের দশম তফসিলের আওতাধীন দলত্যাগ বিরোধী আইনের চূড়ান্ত অপব্যবহার হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বিত বেঞ্চ সিবালের এই আবেদন শুনে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছে।
দলত্যাগ বিরোধী আইন ও সিবালের বিস্ফোরক আর্জি
বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে আপ (AAP), তৃণমূল কংগ্রেস এবং উদ্ধবসেনার মতো একাধিক বিরোধী দলে ব্যাপক ভাঙন ও দলবদলের হিড়িক দেখা গেছে। এই দলগুলির বহু সাংসদ মূল দলের অনুমতি বা নিয়ম না মেনেই অন্য দল বা জোটের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন এবং বহু ক্ষেত্রে পুরনো দলের সদস্যপদ বজায় রেখেই এই কাজ চালাচ্ছেন। নেপথ্যে শাসকদলের মদদ রয়েছে বলেই বরাবর অভিযোগ করে এসেছে বিরোধীরা।
এই আবহেই সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ বা বিশেষ পিটিশন দাখিল করেছেন কপিল সিবাল। আদালতে সিবাল জোরালো সওয়াল করে বলেন, “কী হচ্ছে এই দেশে? এই ভাবে যদি চলতে থাকে, তবে সংবিধানের দশম তফসিলের অধীনে থাকা দলত্যাগ বিরোধী আইন সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে।” তাঁর মূল বক্তব্য, বর্তমান আইনের একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়েই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি অনায়াসে এ ধরনের বেআইনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সব দিক বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে।
উদ্ধবসেনার দলবদল মামলায় স্পিকারকে নোটিস
অন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায়, উদ্ধব ঠাকরে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার ৬ জন সাংসদের একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগদানের সিদ্ধান্তকে সম্প্রতি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা স্বীকৃতি দিয়েছেন। স্পিকারের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা মামলায় এখনই কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় লোকসভার স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস জারি করেছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও বিচার বিবেচনা করা হবে।