“আদানি-আম্বানির ঋণ মকুব, আর পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ছারখার!” কেন্দ্রকে তুলোধোনা প্রিয়াঙ্কার

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি। বুধবার সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে দেশে কার্যত কোনো গণতন্ত্র নেই এবং সংসদে পড়ুয়াদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর মতে, সংসদে যা ঘটছে তা পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সচেতনভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর পুলিশি অত্যাচারের ঘটনার জেরে রাজধানী দিল্লিতে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি, সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ একাধিক বিরোধী সাংসদ। সেই বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে পুলিশ তাঁদের জোর করে টেনে-হিঁচড়ে বাসে তুলে আটক করে এবং পরে গভীর রাতে ছেড়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের চত্বর এই ঘটনার জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
এই পুলিশি নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এদিন কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরা কালো পোশাক পরে সংসদ ভবনে উপস্থিত হন। সকালে সংসদ চত্বরে রাহুল গান্ধি ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধির পাশাপাশি কেসি বেণুগোপাল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মতো বিরোধী প্রতিনিধিরা ‘নরেন্দ্র মোদি ভীতু’ স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরেও নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে ককরোচ জনতা পার্টি।
সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে ওয়েনাড়ের কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রতিবাদের অধিকার। এই অধিকারগুলি কোনোভাবেই অগণতান্ত্রিক হতে পারে না। বরং সংসদ এবং রাস্তাঘাটে যা চলছে, সেটাই সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। বিরোধী দলনেতা এবং অন্য সাংসদদের সংসদে মুখ খুলতে বা বক্তব্য রাখতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না এবং যখনই তাঁরা বলতে উঠছেন, তখনই তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।
লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বলেন যে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পড়ুয়াদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের মতো গুরুতর বিষয়ে আলোচনা করা যাবে কি না, তার জন্য অধ্যক্ষ বলছেন যে তাঁকে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর অর্থ হলো দেশে গণতন্ত্র কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নাস্থলে হঠাৎ হাজির হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। পরে জিতেন্দ্র সিং সামাজিক মাধ্যমে জানান যে, আন্দোলন তুলে নেওয়ার জন্য তাঁদের পাঠানো হয়েছিল কারণ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। এনডিএ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে সংসদের বাদল অধিবেশনে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হবে। তবে অধিবেশনের শুরুতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু আলোচনায় রাজি হওয়ার কথা বললেও, কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল সাফ জানিয়ে দেন যে কেবল আলোচনা নয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও তাঁদের প্রধান দাবি। হইচই ও স্লোগানবাজির জেরে লোকসভার অধিবেশন দুপুর দু’টো পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায়।