“শুধু অভিষেক করলে প্রবলেম!” একুশের মঞ্চে মমতার ধমকের পরই বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাদানুবাদকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ২১ জুলাইয়ের মহা সমাবেশে দীর্ঘক্ষণ ভাষণ দেওয়ায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। এই ঘটনার ঠিক পরপরই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে দলের একাংশ এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে চরম ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের জেরে শাসকদলের অন্দরের অন্তর্দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্য চলে এসেছে। এদিনের বক্তব্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যপ্রণালী নিয়ে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে দলীয় বৈঠকে বা বিভিন্ন কর্মসূচিতে কেবল এক ব্যক্তির নাম জপ করলে দলের অন্দরে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাঁর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষও তাঁকে ভালোবাসে, যা দলের একাংশের হজম হচ্ছে না।

কল্যাণ আরও বলেন যে ২০২২ সালেও তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন এবং তখন বর্তমান তোষামোদকারীরা কোথায় ছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, যারা দল ছেড়ে চলে গেছেন বা দলে থেকে ষড়যন্ত্র করছেন, তারা কখনওই প্রকৃত লড়াকু নন। পাশাপাশি, তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যেও বিস্ফোরক বার্তা দিয়ে জানান যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার কোটি কোটি সাধারণ মানুষের নেত্রী হয়েছেন, কোনো রক্তের সম্পর্কের মানুষের জন্য তিনি এই জায়গায় পৌঁছননি। দিদি যদি সঠিক বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি না করেন, তবে তিনি নিজ হাতেই তিলে তিলে গড়ে তোলা এই দলটিকে শেষ করে দেবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই প্রবীণ নেতা।