‘বাইরে থেকে গুন্ডা পাঠাচ্ছে বিজেপি!’-আন্দোলন ভণ্ডুলের চক্রান্ত নিয়ে বিস্ফোরক অভিজিৎ দিপকে

নিট প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে চলা আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে রাজধানীতে। ককরোজ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক গুরুতর অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন যে, আন্দোলনকে অস্থিতিশীল ও উসকে দেওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাইরে থেকে লোকজন পাঠাচ্ছে বিজেপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি বলেন, “আমরা গত এক মাস ধরে এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছি। এতদিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আন্দোলন বড় আকার ধারণ করায় এখন বিজেপি পরিকল্পিতভাবে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছে।” আন্দোলনের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং বিক্ষোভকে হিংসাত্মক রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সমস্ত বাধা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন সিজেপি প্রধান।

ফাস্টট্র্যাক কোর্ট গঠনের বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

দেশজুড়ে ছাত্রবিক্ষোভ এবং সংসদের অন্দরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে সরকার যে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করছে, সে কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী লেখেন:

“প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। যারা দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে পাল্টা তোপ দাগেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি লেখেন:

“দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন আপনি। আপনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি দখল ও ধ্বংস হতে দিয়েছেন, বরং এর জন্য দায়ীদেরই রক্ষা করেছেন।”

একদিকে যন্তর মন্তরে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জোরালো দাবি, আর অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ফাস্টট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা—সব মিলিয়ে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উত্তপ্ত।