প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ! জঘন্য অপরাধের বিচার দ্রুত সারতে দেশজুড়ে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গড়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

দেশজুড়ে যেকোনো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর থেকেই বিচার ব্যবস্থার গতি প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়া সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। বিশেষ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একটানা দাবির কেন্দ্রে থাকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে মামলার শুনানি সম্পন্ন করার জোরালো আর্জি। সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিভিন্ন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং তার জেরে সৃষ্ট চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট বা দ্রুত বিচার আদালতগুলি ফের একবার জাতীয় খবরের শিরোনামে চলে এসেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। তিনি তাঁর অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স (X)-এর মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি অপরাধীকে কঠোরতম আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে এবং এই স্পর্শকাতর মামলাগুলির দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করার জন্য দেশজুড়ে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট স্থাপন করা হবে।

ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত মূলত এমন একটি বিশেষ বিচার ব্যবস্থা, যেখানে সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট মামলার শুনানি সম্পন্ন করে দ্রুত রায় প্রদান করা হয়। বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগের একাদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুসারে ২০০০ সালে এই বিশেষ আদালতগুলি সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মূলত দেশের জেলা ও অধস্তন আদালতগুলিতে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা অমীমাংসিত মামলা ও মোকদ্দমার পাহাড় দ্রুত নিষ্পত্তি করাই ছিল এই পরিকল্পনা গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য। এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অধীনে ২০১১ সাল পর্যন্ত এই আদালতগুলি নিয়মিত চালু ছিল এবং পরবর্তীতে তা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে দিল্লির নৃশংস ও মর্মান্তিক নির্ভয়া মামলার জঘন্য ঘটনার পর ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে দেশজুড়ে জোরালোভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

সেই সময় জনমতের প্রবল চাপের মুখে পড়ে দিল্লি হাইকোর্ট প্রাথমিকভাবে ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের মামলাগুলির দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার জন্য পাঁচটি নতুন ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে মামলার চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংখ্যা বাড়িয়ে মোট ছয়টিতে উন্নীত করা হয়। এই বিশেষায়িত ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতগুলির মধ্যে দেশের প্রথম আদালতটি ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি দক্ষিণ দিল্লির সাকেত আদালত চত্বরে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে পরবর্তীতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী নির্ভয়া মামলার বিচারকার্য সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ থিতিয়ে পড়ার পর বেশ কিছু রাজ্য সরকার নিজেদের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও তহবিল ব্যবহার করে জঘন্য অপরাধের বিচার দ্রুত করার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতগুলির পরিচালনা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে গেছে।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের ভবিষ্যৎ ও কার্যকারিতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার অত্যন্ত বড় ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ভয়া তহবিল কমিটি সারা দেশজুড়ে মোট ১,০২৩টি ফাস্ট-ট্র্যাক বিশেষ আদালত স্থাপনের একটি উচ্চাভিলাসী প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। ফৌজদারি আইন (সংশোধন) আইন, ২০১৮ এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস থেকে দেশজুড়ে ফাস্ট ট্র্যাক বিশেষ আদালত বা এফটিএসসি (FTSC) প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন শুরু করে। এই বিশেষ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া, বিশেষ করে ধর্ষণ এবং পকসো (POCSO) আইনের অধীনে বিচারাধীন মামলার জট দ্রুত ছাড়িয়ে অপরাধীদের কম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

দেশে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট বা দ্রুত বিচার আদালতগুলি তৈরি করার পেছনে মূলত একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবশ্যম্ভাবী কারণ কাজ করেছে। অতীতে খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন এবং শিশুদের ওপর ঘটিত জঘন্য অপরাধের মতো অত্যন্ত গুরুতর মামলার আইনি রায় পেতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে বছরের পর বছর, এমনকি দশকের পর দশক ধরে আদালতের চত্বরে চক্কর কাটতে হতো। সাধারণ বিচার ব্যবস্থায় বিচারাধীন মামলার অন্তহীন বোঝাপড়া বা মামলার বিশাল জট কমানোর তাগিদও এই আদালত গঠনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। সমাজে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে তাদের সম্পর্কিত অপরাধমূলক মামলাগুলির অবিলম্বে এবং দ্রুত নিষ্পত্তি করা একান্ত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সর্বেপরি, দেশের সাধারণ মানুষের মনে বিচার ব্যবস্থার প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখতে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প ছিল না।

এই বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালতগুলির পরিকাঠামো এবং সুচারু পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অতীতে একটি বিশাল আর্থিক বাজেট বরাদ্দ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট (FTSC) প্রকল্পের সার্বিক রূপায়ণের জন্য মোট ১,৯৫২.২৩ কোটি টাকার একটি মোটা অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্ভয়া তহবিলের অধীনে একা কেন্দ্রীয় সরকার ১,২০৭.২৪ কোটি টাকা সরাসরি প্রদান করছে, বাকি প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলি নিজেদের তহবিল থেকে বহন করছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে মোট ১,০৩৪.৫৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা হিসেবে প্রদান করেছে। এর সুফল হিসেবে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই আদালতগুলি সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে কেবল মধ্যপ্রদেশেই ৬৭টি এবং কেরালায় ৫৫টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে সারা দেশে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের সংখ্যা ও কার্যকারিতার চিত্রটি বেশ স্পষ্ট। ২০২৫ সালের সংসদীয় বর্ষাকালীন অধিবেশনে পেশ করা একটি সরকারি প্রশ্নের লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত দেশের মোট ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সফলভাবে ৭২৫টি ফাস্ট-ট্র্যাক বিশেষ আদালত স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো যে, মোট স্থাপিত আদালতের মধ্যে ৩৯২টি ছিল একান্তভাবে নিবেদিত বিশেষ পকসো (POCSO) আদালত। এই বিশেষ পকসো আদালতগুলি মূলত শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যাবতীয় যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলার বিচার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে থাকে। আজ পর্যন্ত এই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতগুলির মাধ্যমে দেশজুড়ে মোট ৩৩৪,২১৩টি জটিল মামলার সফল নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতার এক অনন্য নজির।

কেন্দ্রীয় সরকারের পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ বিচারিক আদালতগুলিতে যেখানে ধর্ষণ এবং পকসো (POCSO) মামলার গড় নিষ্পত্তির হার প্রতিটি আদালতে প্রতি মাসে মাত্র ৩.২৬টি মামলা, সেখানে ফাস্ট-ট্র্যাক বিশেষ আদালতগুলির ক্ষেত্রে এই গড় হার বিস্ময়করভাবে প্রতি মাসে প্রতি আদালতে ৯.৫১টি মামলা। এর সহজ অর্থ দাঁড়াচ্ছে যে, এই বিশেষায়িত আদালতগুলিতে সাধারণ আদালতের তুলনায় প্রায় তিনগুণ দ্রুত গতিতে মামলার আইনি নিষ্পত্তি সম্পন্ন হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বর্তমানে উত্তর প্রদেশ রাজ্যে সর্বাধিক সংখ্যক ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত সচল রয়েছে, যার মোট সংখ্যা একলাফে ২১৮টিতে গিয়ে ঠেকেছে। মূলত মামলার তীব্রতা ও অপরাধের ধরণ বিচার করেই এই আদালতগুলিতে মামলা স্থানান্তরিত করা হয়।

কোন ধরনের সংবেদনশীল মামলাগুলি সাধারণত ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের আওতায় বিচার করা হয়, তা নিয়ে নির্দিষ্ট আইনি বিধি রয়েছে। এর মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে নৃশংস ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ। এছাড়াও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যাবতীয় যৌন অপরাধ, নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নানা গুরুতর অপরাধ, সমাজের প্রবীণ নাগরিকদের সাথে সম্পর্কিত কিছু বিশেষ জঘন্য ঘটনা, এবং খুন বা প্রাণনাশের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিচার এখানে দ্রুত করা হয়। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন আদালতে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা জটিল ফৌজদারি মামলাগুলি কিংবা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ও হাইকোর্ট কর্তৃক বিশেষভাবে চিহ্নিত স্পর্শকাতর মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টগুলির সাহায্য নেওয়া হয়ে থাকে।

কার্যকারিতা ও কাঠামোর ভিত্তিতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত মূলত দুই প্রধান ভাগে বিভক্ত থাকে। প্রথমটি হলো সাধারণ ফাস্ট ট্র্যাক বিশেষ আদালত: এই বিশেষ আদালতগুলিতে ধর্ষণ এবং পকসো আইন—উভয় ধরনের সম্পর্কিত অপরাধের মামলাই একই সঙ্গে একসঙ্গে শোনা হয় এবং সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায়দানের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা থাকে। তবে অনেক সময় পুলিশি তদন্তে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এবং শক্তপোক্ত প্রমাণের অভাবে বিচার প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হতে পারে। দ্বিতীয়টি হলো বিশেষ পকসো ফাস্ট ট্র্যাক আদালত: এই বিশেষ আদালতগুলো সম্পূর্ণভাবে শুধুমাত্র পকসো আইনের অধীনে শিশুদের ওপর সংঘটিত অপরাধের মামলা শুনানির জন্য নিবেদিত থাকে। এই বিচার প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যে শিশু ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বারবার আদালতে সশরীর হাজিরা দেওয়া থেকে বিশেষ অব্যাহতি পায়। এছাড়া তাদের সুকুমার মনে যাতে কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সেজন্য তাদের সংবেদনশীল জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় অত্যন্ত বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার কঠোর নির্দেশ থাকে। এই বিশেষ মামলাগুলিও সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা সময় সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর নির্ধারিত থাকে।

অতীতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতগুলি একাধিক নজিরবিহীন ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে সারা দেশকে চমকে দিয়েছে। যেমন—২০২৬ সালের এপ্রিলে ফাস্ট ট্র্যাক বিশেষ আদালত উত্তর প্রদেশের গোরখপুরে মাত্র ছয় মাস বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত নরপিশাচকে ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে কঠোরতম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। একইভাবে, মধ্যপ্রদেশের ইটারসিতে ২০২৩ সালে নিজের নাবালিকা ভাগ্নিকে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের দায়ে এক অভিযুক্তকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে মাত্র ২১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। এছাড়া, ২০২৫ সালের এপ্রিলে খোদ রাজধানীতে অর্থাৎ দিল্লিতে ১৬ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অপরাধে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারে দ্রুত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এমনকি ২০২৬ সালের জুন মাসে মহারাষ্ট্রের নরসাপুরে তিন বছরের একরত্তি শিশুকে ধর্ষণের পিশাচিক অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে মাত্র ৫৫ দিনের মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়ে দ্রুত বিচার ব্যবস্থার এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের মনে প্রায়শই একটি প্রশ্ন উঁকি দেয় যে, এই বিশেষায়িত ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলিকেও কি উচ্চতর আদালতে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব? এই প্রসঙ্গে আইনি বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানান যে, ফাস্ট-ট্র্যাক বিশেষ আদালতগুলির জন্য দেশের বিচার ব্যবস্থায় কোনো পৃথক বা সমান্তরাল বিচার ব্যবস্থা নেই। এগুলি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট তথা রাজ্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অভিজ্ঞ বিচারকদের দ্বারাই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হয়ে থাকে। সাধারণ বিচারিক আদালতগুলির মতোই এই বিশেষ আদালতগুলিতেও ফৌজদারি আইন অর্থাৎ নতুন বিএনএসএস (BNSS)-এর একই ধারা ও নিয়মগুলি সমানভাবে প্রযোজ্য হয়। সাধারণ আদালতের রায়ের মতোই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও উচ্চতর আদালতে আপিল করার পূর্ণ আইনি অধিকার প্রতিপক্ষের থাকে। কোনো জেলার অধস্তন ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের সিদ্ধান্তকে সংক্ষুব্ধ পক্ষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। একইভাবে, উচ্চ-স্তরের ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার আইনি সংস্থান সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত রয়েছে।