“দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে পড়ুয়াদের আন্দোলন!”-কীভাবে শুরু হল দেশের সবচেয়ে বড় ছাত্রবিক্ষোভ?

NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তাল গোটা দেশ। পড়ুয়াদের এই আন্দোলন এখন আর কেবল দিল্লির যন্তর মন্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বেঙ্গালুরু, পাটনা, মুম্বই, গোয়া সহ দেশের নানা প্রান্তে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি একটাই—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও পলিটিক্যাল কমিউনিকেশনস স্ট্র্যাটেজিস্ট ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দিপকে-র হাত ধরে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ আজ গোটা দেশের ছাত্র-যুবসমাজের সর্বাত্মক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
কীভাবে শুরু হয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)?
শুরুতে আন্দোলনটি খুব একটা বড় আকারে না হলেও, অভিজিৎ দিপকে সবাইকে এক ছাতার তলায় আনার জন্য একটি গুগল ফর্ম চালু করেন। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে সেখানে হাজার হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেন। এরপর গত ৯ জুলাই প্রথম সংসদ অভিযান এবং পরবর্তীতে ২০ জুলাই দিল্লির রাজপথে দশ হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত এই আন্দোলনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
তবে এই অদ্ভুত নামকরণের পেছনের ইতিহাসটি বেশ চাঞ্চল্যকর। গত মে মাসে একটি মামলার শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন যে, দেশের বেকার যুবকদের একাংশ সাংবাদিকতা ও আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ হয়ে উঠছেন। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে তাঁর ওই মন্তব্য কেবল ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে ছিল, তা সত্ত্বেও বিচারপতির সেই মন্তব্যকে তীব্র ব্যঙ্গ করেই আন্দোলনকারীরা তাঁদের সংগঠনের নাম রাখেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। বর্তমানে আন্দোলনের বহু স্বেচ্ছাসেবী প্রতিবাদ জানাতে অভিনব কায়দায় ‘আরশোলার পোশাক’ পরে মিছিলে অংশ নিচ্ছেন।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই ছাত্র আন্দোলনকে এক নতুন নৈতিক মাত্রা দিয়েছে পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক-এর অনশন। CJP-র আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে পুলিশ তাঁকে জোর করে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করালেও সেখানেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক ৩ মিনিটের ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, “আমি এখনও বেঁচে আছি। আমার ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে গিয়েছে এবং পেশীর শক্তিও অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে, তবে আমি ভালো আছি।” —
CJP-র মূল দাবি ও রাজনৈতিক তরজা
চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় (NEET) প্রায় ২২.৮ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের জেরে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় এবং নতুন করে পরীক্ষার মানসিক ও আর্থিক চাপে বহু পড়ুয়া চরম হতাশার শিকার হন, এমনকি আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে। এই প্রেক্ষাপটেই CJP-র মূল দাবি হল—ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
এদিকে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদও চড়ছে। সংসদ ভবন অভিযানে পুলিশি লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের ব্যবহারের প্রতিবাদে পরের দিনই কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-র নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাল্টা অভিযোগ, ছাত্রসমাজকে রাজনৈতিক স্বার্থে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে কংগ্রেস। সবমিলিয়ে নিট কাণ্ড ও সিজেপির এই আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র ঝটিকা তৈরি করেছে।