বাংলাদেশ থেকে আনা কাঠামো ও মাটি! ১২৫ বছরের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে আলিপুরদুয়ারের চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপুজো

দেশভাগের যন্ত্রণা বুকে নিয়েও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে আলিপুরদুয়ারের চৌধুরী পরিবার। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রাম থেকে আনা প্রতিমার কাঠামো এবং পবিত্র মাটি ব্যবহার করে আজও এখানে দুর্গাপুজো হয়, যা প্রায় ১১৫ বছরের পুরোনো। এই পুজো কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং দেশভাগের ইতিহাস এবং পরিবারের এক পারিবারিক মিলন উৎসবও।
পুজোর প্রাচীন ঐতিহ্য ও নিয়ম
চৌধুরী পরিবারের পুজোর সূচনা করেছিলেন স্বর্গীয় মনমোহন চৌধুরী। দেশভাগের পর ১৯৫০ সালে তিনি পরিবারের সঙ্গে আলিপুরদুয়ারের লিচুতলায় চলে আসেন। সেই সময়েই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন প্রতিমার পুরোনো কাঠামো এবং মাটি। পরিবারের প্রবীণ সদস্য নবীন চৌধুরী জানান, এই পুজো মৎস্য পুরাণ মতে অনুষ্ঠিত হয়।
পুজোর কিছু বিশেষ নিয়মও রয়েছে। যেমন:
বলি প্রথা: একসময় মহিষ ও পাঁঠা বলি হলেও, বর্তমানে চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়।
ভোগের বিশেষত্ব: সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীর দিন দেবীকে বাল্যভোগ দেওয়া হয়, যেখানে সিদ্ধ ভাত ও বিভিন্ন সবজি থাকে। নবমীর দিন পুকুরের মাছ দিয়ে ভোগ রান্না করা হয়। একসময় এই পুজোর ভোগ খেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় ও তাঁর স্ত্রী।
বিসর্জন: অন্যান্য বারোয়ারি পুজোর মতোই দশমীর দিন বাড়ির পুকুরেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
পারিবারিক মিলন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
পুজোর এই দিনগুলিতে পরিবারের সদস্যরা, যারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকেন, তারা একত্রিত হন। পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম দেবশ্রীতা চৌধুরী বলেন, “আমাদের বাড়ির পুজোতে যে আনন্দ হয়, তা বলে বোঝানো যাবে না। বাইরে পুজো দেখার কোনো আক্ষেপ আমাদের নেই।”
আর এক সদস্য আরুশা চৌধুরী জানান, পুজোর বাসনপত্রও বাংলাদেশ থেকে আনা হয়েছে এবং সেগুলোর একটি বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। এই পুজো কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং পারিবারিক বন্ধনকে আরও মজবুত করার একটি উপলক্ষ।