এল নিনোর থাবা! জুন মাসে ঐতিহাসিক খরা, বর্ষার ঘাটতি মেটাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতা মোদী সরকারের

প্রিন্ট তৈরি

বিগত এক শতাব্দীর মধ্যে অন্যতম শুষ্কতম জুন মাস পার করার পর দেশজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী দুর্বল বর্ষার আশঙ্কায় এবার নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র সরকার। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ঘাটতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রককে নিয়ে আপৎকালীন পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—কৃষিকাজ, পানীয় জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার ওপর বর্ষার এই খামখেয়ালিপনার প্রভাব ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা। ভারতের প্রায় অর্ধেক কৃষি জমি যেহেতু বর্ষার ওপর নির্ভরশীল, তাই সরকারের এই পদক্ষেপকে অর্থনীতি ও কৃষিব্যবস্থা বাঁচানোর লড়াই হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ১১১.৮ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিক ১৭২.৪ মিলিমিটারের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কম। ১৯০১ সালের পর এটি দেশের পঞ্চম শুষ্কতম জুন মাস। দেশের ৩৬টি আবহাওয়া অঞ্চলের মধ্যে ২৪টি অঞ্চলই বর্তমানে বৃষ্টির আকালের শিকার। বর্ষা দিল্লি, পঞ্জাব বা রাজস্থানের কিছু অংশে প্রবেশ করলেও, আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জুলাই মাসেও দেশজুড়ে বৃষ্টির পরিস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক হবে না।

এই খরা পরিস্থিতির নেপথ্যে মূল খলনায়ক প্রশান্ত মহাসাগরের ‘এল নিনো’ (El Nino)। এই জলবায়ু পরিবর্তন প্রক্রিয়া সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলের গতিপথ বদলে দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে দুর্বল করে দিচ্ছে। জুনে ভারত মহাসাগরে কোনো নিম্নচাপ তৈরি না হওয়া এবং ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) নিষ্ক্রিয় থাকা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে-র সূত্রানুসারে, প্রধানমন্ত্রী কৃষি, গ্রামোন্নয়ন, খাদ্য, জলশক্তি, বিদ্যুৎ ও অর্থসহ একাধিক মন্ত্রককে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, দেশের ৩১৫টি জেলা ইতিমধ্যেই বৃষ্টিহীনতার কবলে পড়েছে। এর মধ্যে ১১১টি জেলার সেচ ব্যবস্থা ২৫ শতাংশের চেয়েও কম, যা সরকারের চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জুলাই মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে খরিফ শস্য—যেমন ধান, ভুট্টা, ডাল ও সয়াবিনের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া জলাধারগুলোর জলস্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানীয় জলের সংকট এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য খরা মোকাবিলায় কেন্দ্র ‘মনরেগা’ (MGNREGS) প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানোর কথাও বিবেচনা করছে। কৃষিজীবী মানুষ এবং নীতিনির্ধারক—সবাই এখন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর সক্রিয় হওয়ার দিকে তাকিয়ে আছেন। সরকার এখন সম্ভাব্য সবরকম প্রতিকূলতা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও দেশের অর্থনীতি বড় ধরণের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়।