আসছে রাফাল-তেজসের জন্য মারণাস্ত্র, বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র সরকার

ভারতের সামরিক শক্তিকে আরও আধুনিক ও বিধ্বংসী করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের (DAC) আগামী বৈঠকে বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল প্রতিরক্ষা প্রকল্পের ওপর সিলমোহর পড়তে পারে। নতুন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) এবং সেনাপ্রধান ও নৌপ্রধানের উপস্থিতিতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে থাকছে যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প:

  • ম্যান পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM): ডিআরডিও (DRDO) নির্মিত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শত্রু শিবিরের ট্যাঙ্কের ওপর ত্রাস হয়ে উঠবে। ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেডের তৈরি এই প্রকল্পের মূল্য প্রায় ২৬০০ কোটি টাকা। এর আওতায় ১০০টি লঞ্চার ও ২৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পাবে সেনাবাহিনী। ভবিষ্যতে এর উৎপাদন বেসরকারি শিল্প সংস্থাতেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • হামার (HAMMER) ক্ষেপণাস্ত্র: রাফাল ও তেজস যুদ্ধবিমানের আক্রমণ ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে ৬০০টি ‘হামার’ প্রিসিশন গাইডেড মিসাইল কেনা হচ্ছে। মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে। এর খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা।

  • ভারবা (Verba) এয়ার ডিফেন্স: বর্তমানের ‘ইগলা’ ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিক সংস্করণ হিসেবে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় তৈরি হবে ভারবা স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

কেন এই আধুনিকীকরণ?

দেশের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে আত্মনির্ভর করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশপথ ও স্থলভাগের লড়াইয়ে ভারত এখন অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে। রাফাল ও তেজস যুদ্ধবিমান ছাড়াও নৌবাহিনীর রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমানেও এই অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তালিকায় আর কী কী রয়েছে?

মন্ত্রকের সম্ভাব্য আলোচনার তালিকায় রয়েছে:

  • কামিকাজে ড্রোন ও ড্রোন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা: যুদ্ধের ময়দানে ড্রোনের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা।

  • সফটওয়্যার ডিফাইন্ড রেডিও: যোগাযোগের আধুনিকীকরণের জন্য।

  • স্করপিন শ্রেণির সাবমেরিন: নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে।

ভারতের এই সামরিক প্রস্তুতি প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরিখে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের মাধ্যমে এই সব অস্ত্র দেশেই তৈরি হওয়ার ফলে খরচ কমার পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।