অসল তৃণমূল কে? নির্বাচন কমিশনে তলব দুই শিবিরকেই, সোমবারই কি চূড়ান্ত রায়?

ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন নির্বাচন কমিশনের চৌকাঠে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করতে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—উভয় পক্ষকেই নোটিশ পাঠাল নির্বাচন কমিশন। আগামী সোমবার, ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে উভয় শিবিরকে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের নজর যেসব বিষয়ে:
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দলটির প্রতীকের অধিকার, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং সাংগঠনিক বিষয়গুলো কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই এই আইনি লড়াই। উভয় পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করায় কমিশন এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
দুই শিবিরের দাবি:
ঋতব্রত গোষ্ঠী: বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের বিদ্রোহী এই গোষ্ঠী দাবি করেছে, দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনেরও বেশি তাদের সমর্থনে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের দাবি, তারা দলের সাংগঠনিক সভা ডেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির: কালীঘাট শিবিরের স্পষ্ট দাবি, দলের কর্তৃত্ব বিধায়কের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, বরং দলের সংবিধান ও সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। তাদের দাবি, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি তারা কমিশনে জমা দিয়েছে।
কমিশনের দ্বারস্থ ঋতব্রত:
বৃহস্পতিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে দীর্ঘ আলোচনা করেন। বৈঠকের পর ঋতব্রত জানান, কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তাদের বক্তব্য ধৈর্য ধরে শুনেছে। অন্যদিকে, কালীঘাট শিবির ঋতব্রতদের এই পদক্ষেপ এবং তাদের ডাকা সাংগঠনিক সভাকে পুরোপুরি অবৈধ বলে খারিজ করে দিয়েছে।
সংঘাতের ভবিষ্যৎ:
নির্বাচন কমিশনের এই নোটিশ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। সোমবারের মধ্যে উভয় পক্ষ নিজেদের স্বপক্ষে কী যুক্তি ও প্রমাণ দাখিল করে এবং কমিশন তার ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। ঘাসফুল শিবিরের এই ভাঙন ও আইনি লড়াই রাজ্যের রাজনীতিতে এক জটিল মোড় তৈরি করেছে।