‘একটাও বাদ দেব না!’ অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ১ জুলাই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এই আবেদনকারীরা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে পারেননি বলেই সরকারের দাবি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মহিলাকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে নিয়ম মেনে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য পুনরায় যাচাই করার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় বড়সড় জালিয়াতি ধরা পড়েছে। প্রায় ২৭ লক্ষ মহিলার নাম তালিকাভুক্ত ছিল, যাদের তথ্যে চরম অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। কেউ ভারতীয় নাগরিক নন, কারো নাম ভোটার তালিকায় নেই, এমনকি মৃত ব্যক্তিদের নামেও সরকারি অনুদান নেওয়া হচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এমন ঘটনাও নজরে এসেছে যেখানে একই ব্যক্তির নাম তিনটি আলাদা ভোটার তালিকায় রয়েছে এবং তিনি তিনটি পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদান নিচ্ছিলেন।” মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে জানান, সরকারি অর্থ শুধুমাত্র বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য। তাই নিয়ম মেনেই এই ভুয়া নামগুলো তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক মহলের জল্পনা উড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানবিকতার নজির রেখেছেন শরণার্থী ও ট্রাইব্যুনালে মামলা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। তিনি জানিয়েছেন, যারা বাংলাদেশ থেকে এসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে আবেদন করেছেন, তাঁদের ভাতা আপাতত বন্ধ করা হবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত সিএএ-র আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। একইভাবে, যেসব আবেদনকারীর মামলা ট্রাইবুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ভাতা চালু থাকবে।

বিরোধীদের সমালোচনাকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কারা যেন বলছিলেন যে, এই সরকার আগের সরকারের তুলনায় উপভোক্তার সংখ্যা অর্ধেক করে দিয়েছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা একজন উপভোক্তাকেও বাদ দেব না। আমরা এটাকে অনুদান বলি না, এটা আপনার অধিকার।” তাঁর এই ঘোষণায় স্পষ্ট, স্বচ্ছতা বজায় রাখা সরকারের মূল লক্ষ্য হলেও, প্রকৃত অসহায় বা যোগ্য উপভোক্তাদের সুরক্ষিত রাখাই তাঁর প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। এই উদ্যোগ রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি রোধে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।