রাজ্যের স্কুলগুলোতে গরমের ছুটির মেয়াদ বাড়ায় পড়ুয়ারা যখন কিছুটা স্বস্তিতে, ঠিক তখনই শিক্ষা মহলে শোরগোল ফেলে দিল এক নতুন সরকারি নির্দেশিকা। ছুটি কাটিয়ে স্কুল খুললেই এবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও সরকার অনুমোষিত স্কুলে সকালের প্রার্থনাসভায় ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার প্রধান শিক্ষকদের কাছে ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
কী রয়েছে নতুন নির্দেশিকায়?
এতদিন রাজ্যের অধিকাংশ স্কুলে প্রার্থনাসভায় জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ এবং রাজ্য সঙ্গীত ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গাওয়া হতো। এবার থেকে এই তালিকার সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুক্ত হতে চলেছে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’।
৬টি স্তবক বাধ্যতামূলক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক গাইডলাইন মেনে বন্দে মাতরমের প্রথম ৬টি স্তবক গাইতে হবে।
পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা: স্কুল খোলার পর ক্লাসে ক্লাসে এই গানের ৬টি স্তবকের প্রিন্ট আউট পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যাতে তারা সহজেই গানটি মুখস্থ করতে পারে।
কড়া নজরদারি: প্রার্থনাসভায় এই গান গাওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়মিতভাবে শিক্ষা দফতরকে রিপোর্ট আকারে জানাতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে।
সমমর্যাদায় জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গীত
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বন্দে মাতরম নিয়ে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মোদী মন্ত্রিসভার নতুন প্রস্তাবে জানানো হয়েছে, ‘জনগণমন’-র সমমর্যাদা দেওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে। নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোথাও এই দুটি গান একসঙ্গে গাওয়া বা বাজানো হয়, তবে সেক্ষেত্রে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ বাজাতে হবে। এছাড়াও এই গান বাজার সময় শ্রোতাদের উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা এখন থেকে আবশ্যিক।
প্রশাসনিক রদবদলের আবহ
বর্তমানে রাজ্যে শিক্ষা প্রশাসনের কাঠামোয় কিছুটা রদবদল চলছে। সরকারি নির্দেশিকার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদে কোনো স্থায়ী সভাপতি নেই। দুই পর্ষদেই বর্তমানে অস্থায়ীভাবে সরকারি আধিকারিকরা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়েই বন্দে মাতরম সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা কার্যকর করার তোড়জোড় শুরু হলো।
বাংলার ভোট রাজনীতিতে বন্দে মাতরম ও জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে এবার সরাসরি সরকারি স্তরে স্কুলগুলোতে এই নির্দেশিকা জারি হওয়ায় তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছেন, স্কুল স্তর থেকেই দেশাত্মবোধের পাঠ দিতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ। এখন দেখার, ছুটি শেষে স্কুল খুললে এই নতুন নিয়ম কতটা শৃঙ্খলার সঙ্গে পালিত হয়।





