আর তিন-চার দিন অপেক্ষা নয়! মাত্র ৪ ঘণ্টায় গ্যাস ডেলিভারি পেতে এই নম্বরে করুন হোয়াটসঅ্যাপ

রান্না করতে করতে হঠাৎ গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার বিড়ম্বনা এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। বিশেষ করে যাঁদের বাড়িতে একটিমাত্র এলপিজি সিলিন্ডার রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত স্বস্তির খবর। এতদিন গ্যাস বুক করার পর বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছাতে সাধারণত দুই থেকে তিন দিন বা কখনও কখনও এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেত। তবে গ্রাহকদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষা এবং দুশ্চিন্তার অবসান ঘটাতে ইন্ডেন (Indane) নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারী ও দ্রুততম পরিষেবা। এখন থেকে গ্যাস বুক করার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই গ্রাহকদের দোরগোড়ায় সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল তাদের এই নতুন এক্সপ্রেস ডেলিভারি পরিষেবার নাম দিয়েছে ‘এক্সট্রা লাইট নাও’ (Extra Light Now)। তবে একযোগে পুরো দেশে নয়, বর্তমানে পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে কোয়েম্বাটুর, পুণে, গুরুগ্রাম এবং ইন্দোরের মতো নির্বাচিত শহরগুলিতে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। তবে সুখবর হলো, চলতি বছরের অগস্ট মাসের মধ্যে দেশের প্রায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে এবং আগামী অক্টোবরের মধ্যে দেশের সমস্ত শহর ও শহরতলিতে এই এক্সপ্রেস ডেলিভারি পরিষেবা সফলভাবে চালু করা হবে।
গ্যাস সিলিন্ডার রিফিল করা কিংবা নতুন সংযোগ নেওয়ার প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত সহজ ও জলবৎ তরলং করে তোলা হয়েছে। গ্রাহকরা ঘরে বসেই ইন্ডিয়ান অয়েল ওয়ান অ্যাপ কিংবা তাদের অফিশিয়াল কাস্টমার পোর্টালের মাধ্যমে খুব সহজেই অনলাইন বুকিং করতে পারবেন। এছাড়াও, সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হিসেবে 7588888824 এই নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এই চার ঘণ্টার এক্সপ্রেস ডেলিভারির সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব।
শুধু দ্রুত ডেলিভারি নয়, সিলিন্ডারের সামগ্রিক ধরনেও বড়সড় পরিবর্তন আনছে ইন্ডেন। প্রচলিত ভারী লোহার সিলিন্ডারগুলি সরিয়ে ধীরে ধীরে ৫ কেজি এবং ১০ কেজির হালকা ও আধুনিক কম্পোজিট সিলিন্ডার নিয়ে আসা হচ্ছে। এই কম্পোজিট সিলিন্ডারের সবচেয়ে বড় এবং উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো এর অত্যন্ত কম ওজন, যার ফলে এটি বাড়ির যেকোনো কোণে বা যেকোনো জায়গায় সহজে বহন করা যায়। তাছাড়া, সাধারণ লোহার সিলিন্ডারের মতো এগুলিতে সহজে মরচে ধরে না, ফলে জং ধরার কোনো আশঙ্কা থাকে না।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই নতুন প্রজন্মের কম্পোজিট সিলিন্ডারের একটি অংশ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখা হয়েছে। এর ফলে সিলিন্ডারের ভেতরে ঠিক কতটা গ্যাস অবশিষ্ট রয়েছে, তা বাইরে থেকেই স্পষ্ট দেখতে পাবেন গ্রাহকরা। এর জেরে গ্যাসের অপচয় অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে। সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ কম থাকলেই তা সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের নজরে আসবে এবং সময়মতো রিফিল করার ব্যবস্থা করা যাবে। এলপিজি গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং ঝামেলাহীন করে তুলতেই ইন্ডেনের এই বিশেষ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।