‘দম বন্ধ হয়ে আসত শহরে!’ দীর্ঘ দুই দশক পর দেশে ফিরেই তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন লেখিকা?

দুই দশক অর্থাৎ দীর্ঘ কুড়ি বছর পর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ফিরে আসার গুঞ্জন ও ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক ও সাহিত্য মহলে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। আর এই আবহেই প্রখ্যাত ও বিতর্কিত লেখিকার প্রত্যাবর্তন নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার মাটিতে পা রাখার পরই তসলিমার উদ্দেশ্য করা কল্যাণবাবুর সেই বিশেষ মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দেয়। আর কালবিলম্ব না করে সোশাল মিডিয়া ও সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমেই সেই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন খোদ তসলিমা নাসরিন। দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের এই হঠাৎ বাকযুদ্ধ এখন গোটা দেশের সংবাদমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে তসলিমা নাসরিনের নানা মন্তব্য এবং তাঁর উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অতীতে চরম নিরাপত্তা সংকট ও নির্বাসনের জেরে কোলকাতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া এই লেখিকা যখন কুড়ি বছর পর প্রচ্ছন্নভাবে ফের শহরের আবহাওয়া এবং নিজের দীর্ঘ বঞ্চনার স্মৃতি রোমন্থন করছেন, ঠিক তখনই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তসলিমার উপস্থিতি এবং তাঁর অতীতের বিভিন্ন বিতর্কিত অবস্থান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু লেখা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরে একসময় রাজ্যে যে অশান্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি কেউ চায় না। শুধু তাই নয়, তসলিমার বর্তমান কর্মকাণ্ড এবং তাঁর দীর্ঘ exile জীবন নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক ও বিস্ফোরক মন্তব্যের কথা কানে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তসলিমা নাসরিন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এবং নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তিনি কল্যাণবাবুর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তসলিমা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে গলা টিপে হত্যা করতেই এ ধরনের রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি করা হচ্ছে। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, একজন লেখক বা মুক্তচিন্তার মানুষের কণ্ঠরোধ করার অধিকার কারোর নেই। কুড়ি বছর আগে যে পরিস্থিতি তাঁকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে শহর ছাড়তে বাধ্য করেছিল, আজও রাজনৈতিক নেতাদের মানসিকতা বদলায়নি বলেই এমন মন্তব্য করা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তসলিমার এই সপাট ও আপসহীন জবাব রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এই দুই শিবিরের পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সামনে আর কী কী রাজনৈতিক জলঘোলা হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।