সব জল্পনার অবসান! বিধানসভার নতুন স্পিকার বাছলেন শুভেন্দু, কার ওপর ভরসা রাখল বিজেপি?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরবর্তী স্পিকার কে হতে চলেছেন— এই প্রশ্নকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে যে টানটান উত্তেজনা ও জল্পনা চলছিল, তার অবসান ঘটল বৃহস্পতিবার সকালে। সকলকে চমকে দিয়ে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্র বসুর নাম স্পিকার পদের জন্য ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের একাংশ যখন মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়ের নাম নিয়ে নিশ্চিত ছিল, তখন রথীন্দ্র বসুর মনোনয়ন নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তাপস রায়কে ঘিরে তৈরি হয়েছিল প্রবল জল্পনা:
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই স্পিকার পদ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। বিশেষ করে মানিকতলা উপনির্বাচনে জয়ী এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিক তাপস রায় প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে, স্থায়ী স্পিকার হিসেবেও তাঁর নামেই সিলমোহর পড়বে। প্রোটেম স্পিকার হিসেবে তিনি নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ করানোর পর সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় সেই ধারণায় জল ঢেলে দেওয়া হলো।

কেন রথীন্দ্র বসু?
কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু বরাবরই দলের একজন নিষ্ঠাবান এবং প্রাজ্ঞ মুখ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রথীন্দ্র বসুকে স্পিকার পদে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আসলে উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন। একইসঙ্গে বিধানসভার সাংবিধানিক পদের ভারসাম্য রক্ষায় একজন মার্জিত ও আইনি বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিত্বকে বেছে নেওয়া বিজেপির কৌশলী পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ:
শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র স্পিকার নির্বাচন নয়, বরং আগামী দিনে বিজেপির রণকৌশলকেও স্পষ্ট করে দিচ্ছে। অভিজ্ঞ তাপস রায়কে স্পিকার পদের বদলে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক দায়িত্বে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে রথীন্দ্র বসুর মতো একজন উত্তরবঙ্গের বিধায়ককে স্পিকারের আসনে বসানো যে কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের মানুষের আবেগকেও স্পর্শ করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, রথীন্দ্র বসুর পরিচালনায় আগামী দিনে বিধানসভার অধিবেশন কতটা মসৃণ ও ঘটনাবহুল হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy